শনিবার, ১৩ Jun ২০২৬, ০২:০২ পূর্বাহ্ন
সিলেটে চার বছরের শিশু ফাহিমা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ৩৩ দিন পর আদালতে চার্জশিট দাখিল হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি জাকির হোসেনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মন্নান। জাকিরের সঙ্গে তার দুই ভাইকেও মামলার চার্জশিটে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ—পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে সিলেটের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসএমপি জালালাবাদ থানার এসআই নূর উদ্দিন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ৯ (২) এবং পেনাল কোডের ২০১ ধারায় তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। চার্জশিটে মোট ২১ জন সাক্ষী এবং দুটি আলামত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অভিযুক্তদের বাড়ি সিলেটের জালালাবাদ থানার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামে। সম্পর্কে তারা নিহত শিশুর চাচা। বর্তমানে প্রধান আসামি জাকির হোসেন কারাগারে থাকলেও তার দুই সহোদর জয়নাল আহমদ এবং আবুল কালাম পলাতক রয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৬ মে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় চার বছরের শিশু ফাহিমা। দুই দিন পর ৮ মে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ১১ মে রাতে জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সিলেট হাকিম আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দেয় সে। শিশুটিকে প্রথমে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় এবং একপর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে গেলে গলা টিপে হত্যা করা হয়। মরদেহ ব্রিফকেসে লুকিয়ে রেখে ডোবার পাশে ফেলে রাখা হয়। এ ঘটনায় সিলেটজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবিতে স্থানীয়রা আন্দোলনে নামেন।
এদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস দেন। এর আগে ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত জাকির হোসেনের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ—পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, শিশু ফাহিমাকে ধর্ষণ—হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি জাকির হোসেনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। ফাহিমার লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে তার দুই ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মামলাটি গত ৮ মে রুজু হয় এবং গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নূর উদ্দিন আদালতে চার্জশিটটি দাখিল করেন।
তিনি বলেন, ডিএনএ রিপোর্ট প্রাপ্তিতে বিলম্ব ও ঈদের ছুটির কারণে তদন্তে সময় লাগে। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। গ্রেপ্তার আসামি জাকির হোসেনের পাশাপাশি তার দুই সহোদরকে লাশ গুমে সহায়তার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।