বিদ্যুৎ লাইন মেরামতের কথা বলে বাসায় ডেকে এনে ইলেকট্রিক মিস্ত্রি মো. ইউসুফকে আটকে রেখে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে বরিশাল নগরীতে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও হানি ট্র্যাপের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন— সুমাইয়া আক্তার ও তার স্বামী কাওরান ইসলাম আকাশ। তারা বরিশাল নগরীর রূপাতলী সোহরাব হাউজিং এলাকার আহমেদ মোল্লা সড়কের ব্যাংকার্স গলিতে একটি ভাড়া বাসায় অবস্থান করছিলেন।
পুলিশ জানায়, গত ছয়দিন আগে ইসলামী ব্যাংকের এক কর্মকর্তার মালিকানাধীন ‘বুশরা মঞ্জিল’ নামের ভবনের একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন তারা। সেখানে বিভিন্ন ব্যক্তিকে প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে এনে ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা এলাকার ইলেকট্রিক মিস্ত্রি মো. ইউসুফ জানান, নগরীর কাশিপুর এলাকায় সুমাইয়া আক্তারের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে সুমাইয়া রূপাতলীর বাসায় বিদ্যুতের লাইন মেরামতের জন্য তাকে ডেকে নেন।
ইউসুফ বলেন, গত ৫ মে সন্ধ্যা ৬টার দিকে সহকারী মোতাহারকে নিয়ে তিনি ওই বাসায় যান। সহকারীকে নিচে মোটরসাইকেলের কাছে রেখে তিনি তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে ওঠেন। এসময় ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা দুই যুবক আগেই ওপরে উঠে যায়, যা তার সন্দেহজনক মনে হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, ঘরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে দরজা বন্ধ করে লাইট নিভিয়ে দেওয়া হয়। এরপর কয়েকজন মিলে তাকে মারধর করে এবং নারী নির্যাতন মামলার ভয় দেখিয়ে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে চক্রের মূল হোতা কাওরান ইসলাম আকাশ সেখানে যোগ দেন।
ইউসুফ আরও জানান, একপর্যায়ে তার মোটরসাইকেল নিয়ে চক্রের এক সদস্য বের হয়ে গেলে নিচে থাকা সহকারী মোতাহার এগিয়ে আসেন। তাকেও ঘরে আটকে নির্যাতন করা হয়। পরে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে ২৩ হাজার টাকা দেওয়ার পর তারা ছাড়া পান।
কোতোয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক ইসতিয়াক মামুন বলেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়। এসময় ওই বাসায় তল্লাশি চালিয়ে কিছু গাঁজা ও ৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। আটক সুমাইয়া আক্তার নিজেও মাদক সেবনের কথা স্বীকার করেছেন।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) লুৎফর রহমান বলেন, “ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। একটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে এবং অন্যটি হানি ট্র্যাপ সংক্রান্ত। মামলায় মোট চারজনকে আসামি করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “সুমাইয়া আক্তারকে বুধবার রাতে এবং চক্রের মূল হোতা কাওরান ইসলাম আকাশকে বৃহস্পতিবার দুপুরে একই এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসময় ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে রেখে দেওয়া দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। মুক্তিপণের টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।”
Leave a Reply