বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৬:৪৭ অপরাহ্ন

অনলাইন জুয়ার মরণনেশা: ধ্বংসের মুখে হাজারো তরুণ, নিঃস্ব হচ্ছে পরিবার

অনলাইন জুয়ার মরণনেশা: ধ্বংসের মুখে হাজারো তরুণ, নিঃস্ব হচ্ছে পরিবার

​বর্তমানে বাংলাদেশে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতাকে পুঁজি করে জেঁকে বসেছে অনলাইন জুয়ার কালো থাবা। তথাকথিত ‘রাতারাতি বড়লোক’ হওয়ার নেশায় পড়ে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে দেশের হাজার হাজার তরুণ। এক সময়ের সম্ভাবনাময় যুবসমাজ এখন অনলাইন অ্যাপের ফাঁদে পড়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে।

 

​অনুসন্ধানে দেখা গেছে, স্মার্টফোনে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই জুয়ার অ্যাপগুলো প্রচার করা হয়। শুরুতে ব্যবহারকারীকে সামান্য কিছু টাকা (যেমন: ১,০০০ টাকা) বোনাস বা জয়ের লোভ দেখিয়ে আকৃষ্ট করা হয়। এই সামান্য টাকার মোহে পড়ে সাধারণ মানুষ নিজের পকেটের টাকা ঢালতে শুরু করে। পর্যায়ক্রমে ১ হাজার টাকা জেতার আশায় মানুষ কখন ১ লক্ষ টাকা হারিয়ে ফেলছে, তা সে নিজেও বুঝতে পারছে না।

 

​জুয়া এমন এক সর্বনাশা নেশা, যা মানুষকে মুহূর্তেই পথে বসিয়ে দেয়। ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বড় অংকের টাকা জেতার আশায় তারা জমানো টাকা খরচ করে, এমনকি ঋণ বা সম্পদ বিক্রি করেও জুয়ায় ঢালছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, জুয়া খেলে কেউ কখনো স্থায়ীভাবে ধনী হতে পারেনি। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জুয়া খেলে ১০০ জনের মধ্যে ৯৯ জনই সর্বস্বান্ত হয়, আর লাভবান হয় কেবল ওই অ্যাপের আড়ালে থাকা চক্রগুলো।

​বিশেষজ্ঞদের মতে, জুয়া শুধু আর্থিক ক্ষতিই করে না, এটি মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যকেও ধ্বংস করে দিচ্ছে। জুয়ার নেশায় পড়ে তরুণরা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে, পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার নষ্ট করছে। ঋণের বোঝা সইতে না পেরে অনেক তরুণ আত্মহত্যার মতো কঠিন পথ বেছে নিচ্ছে অথবা জড়িয়ে পড়ছে চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে।

​প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, স্মার্টফোনে কোনো ধরণের জুয়ার অ্যাপ বা সন্দেহজনক বিজ্ঞাপন দেখামাত্রই তা ডিলিট বা ব্লক করে দেওয়া। এই মরন ফাঁদে পা দেওয়া মানেই নিশ্চিত ধ্বংস।

​সচেতন মহল বলছে: “জীবনটা সুন্দর, একে সাজানোর জন্য প্রয়োজন পরিশ্রম ও সততা। অনলাইন জুয়ার অন্ধকার পথে পা বাড়িয়ে জীবনকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেবেন না। নিজে বাঁচুন, পরিবারকে বাঁচান এবং জুয়া মুক্ত সমাজ গড়তে এগিয়ে আসুন।”

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2019 Raytahost.Com
Design by RaytaHost