, , ,
শিরোনাম
৫ জেলের মরদেহ পাওয়ার গুজবে কবর খুঁড়লেন স্বজনরা বিদিশা সিদ্দিক গ্রেপ্তার মির্জাগঞ্জে নির্বাচন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও সাংবাদিকের সাথে অসদাচরণের অভিযোগ সড়কের পাশে ফেলে রাখা ব্যাগে কান্নার শব্দ, উদ্ধার সদ্যোজাত কন্যাশিশু ​উত্তাল সাগরে ট্রলারডুবি, পাথরঘাটার ৫ জেলের মরদেহ উদ্ধার এক বেসরকারি হাসপাতালে সিজারের পর ১০ প্রসূতির যক্ষ্মা শনাক্ত, তদন্তে কমিটি ববি’র ছাত্র অধিকার নেতাসহ ৩ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ হাম উপসর্গে ৫ ও ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু কাউখালীতে কিশোরীদের সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ ও উপকরণ বিতরণ চিরতরে চলে গেলেন আজন্ম কষ্ট ও দারিদ্র্যতার সাথে যুদ্ধ করা শতবর্ষী এক সংগ্রামী নাড়ী মায়া রানী দাস
রুমমেটের যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে মসজিদে ঘুমাচ্ছেন শিক্ষার্থী

রুমমেটের যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে মসজিদে ঘুমাচ্ছেন শিক্ষার্থী

Reporter
প্রতিবেদক : অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত : সোমবার, ০৩ আগস্ট, ২০২৬

আবাসিক হলে রুমমেট কর্তৃক সারারাত পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট করা, বাইরে থেকে বন্ধু এনে আড্ডা দেওয়া এবং হুমকিসহ মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তোশক (বিছানা) নিয়ে মসজিদে অবস্থান করছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। ভুক্তভোগী আইন বিভাগের ২০২২—২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। অভিযোগ উঠেছে ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের ২০২০—২১ ও ২০২১—২২ বর্ষের দুই শিক্ষার্থী (রুমমেট) শাওন ও মেহেদীর বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, শহিদ আনাস হলের ৩০৭ নম্বর কক্ষে চারজন আবাসিক শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন। এর মধ্যে ফার্মেসি বিভাগের একজন, আইন বিভাগের একজন (ভুক্তভোগী) এবং অন্য দুজন অভিযুক্ত ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থী। ভুক্তভোগী জুনিয়র শিক্ষার্থী গত এক বছর ধরে ওই কক্ষে অবস্থান করে আসছিলেন। ভুক্তভোগী ও অন্য একজন শিক্ষার্থী মিলে রাত ১২টার মধ্যে ঘুমাতেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা সারারাত জেগে থেকে ফজরের পর ঘুমান। রুমে বাতি জ্বালিয়ে রাখা, উচ্চস্বরে আড্ডা দেওয়া এবং সিনিয়রিটি বজায় রাখার প্রবণতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে অভ্যন্তরীণ সমস্যার মুখোমুখি হয়ে আসছিলেন তিনি। সম্প্রতি একই ব্লকের পাশের কক্ষের সিনিয়ররা এসে বিষয়টি মীমাংসা করে দিলেও তারা একই অবস্থানে অনড় থাকেন। সর্বশেষ গত ২৭ জুলাই রাত ২টায় বিছানা নিয়ে বের হয়ে হল মসজিদে চলে যান ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। তিন দিন ধরে তিনি মসজিদে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, “আমি হলে নিয়মিত সিট পাওয়ার পর থেকেই রুমমেটরা মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন। আমার বিভাগে সকাল ৯টা থেকে সারাদিন ক্লাস—পরীক্ষায় ব্যস্ত থাকতে হয়। তাই সকালে আগেভাগে ঘুম থেকে উঠতে হয় এবং রাত ১২টার আগেই ঘুমাতে হয়। সারারাত তারা না ঘুমিয়ে জেগে থাকে, সেটা তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু বাতি জ্বালিয়ে রাখা, রাত জেগে উচ্চস্বরে আড্ডা দেওয়া, অনুরোধ করলে উল্টো হুমকি দেওয়াসহ নানা মানসিক যন্ত্রণায় পড়ে তিন দিন আগে বের হয়ে গেছি। পাশের কক্ষের বড় ভাইয়েরা সমাধান করে দিলেও তারা কোনো নিয়ম মানে না। উল্টো হুমকি দিয়ে বলে, ‘আমাদের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিচ্ছিস? থাকতে না পারলে তুই চলে যা।’ বাধ্য হয়ে মসজিদে অবস্থান নিচ্ছি। শনিবার প্রভোস্ট স্যারকে লিখিত অভিযোগ দেব, তাতেও যদি প্রতিকার না পাই তাহলে প্রক্টর বরাবর অভিযোগ দেব।”

আরেক রুমমেটের (ফার্মেসি বিভাগের) কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমারও একই সমস্যা হয়। তবে আমি রুমের কোণে থাকায় বেশি সমস্যায় পড়িনি। জুনিয়র (ভুক্তভোগী) তাদের বিছানার কাছে থাকায় তার সমস্যা হচ্ছে বেশি। ওরা রাত জেগে ফজরের পর ঘুমায়, এটা ঠিক। আমরা মীমাংসা করছিলাম। রুমমেটকে ব্যক্তিগত ল্যাম্প কিনেও দিতে চাইছিলাম, তবু সে নেয়নি। মাঝরাতে আড্ডা দিলে বাইরে গিয়ে দেওয়া যায়। রুমে সিনিয়র—জুনিয়র কোনো বিষয় নয়। কারও কষ্ট হচ্ছে কি না, তা বিবেচনা করাই মনুষ্যত্ব ও বিবেকবোধ।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত রুমমেট শাওন বলেন, “ফজরের পর ঘুমায়, কথাটা সত্য নয়। রাত ২টা বা ৩টায় ঘুমিয়ে যায় সে। ওই ছেলে শব্দভীতিতে (সাউন্ডফোবিয়া) ভোগে, কেউ হাঁটলেও তার ঘুম ভেঙে যায়। আমরা সর্বোচ্চ কমানোর চেষ্টা করেছি। একদিন রাত ২টায় বাতি জ্বালিয়ে জরুরি একটা সিভি বানাচ্ছিলাম, সে বন্ধুর রুমে থাকবে বলে একটু রাগ করে রাতে বেরিয়ে গেছে। আমরা তো জানতাম না সে মসজিদে অবস্থান করছে। সিনিয়র হিসেবে তাকে কাছে টানতে চাই, তবে সে কথা বলে না, সম্মানও করে না। এ নিয়ে একদিন হলের ব্লকে মিটিং হয়েছিল, সমাধানও করা হয়েছিল। এরপরও কীভাবে অভিযোগ করল জানি না। প্রভোস্ট স্যারকে বলেছিলাম, একটা সমাধান করে দিতে।”

আরেক অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মেহেদী বলেন, “রাতে চায়ের কাপে চামচ দিয়ে নাড়াচাড়া করলে, লুঙ্গি পরে হাঁটলে, ল্যাপটপ চালালেও তার সমস্যা হয়। কাজ না থাকলে ১২টার মধ্যে বাতি বন্ধ করে দিতে আমরা চেষ্টা করেছি। এত সামান্য বিষয় অভিযোগ করার পর্যায়ে পড়ে না।”

জানতে চাইলে শহিদ আনাস হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আব্দুল কাদের বলেন, “সে বাইরে থাকছে, এ বিষয়ে আমাকে জানানো হয়নি। অভ্যন্তরীণ সমস্যার কথা আজ ভুক্তভোগী আমাকে জানিয়েছে। তাকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। উভয় পক্ষের কথা শুনে শনিবার অফিস সময়ে আলোচনা করে সমাধান করে দেব।”

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 Raytahost.Com
Design by RaytaHost