, , ,
বরিশালে পুলিশ কনস্টেবলের ‘ইয়াবা সেবনের’ ভিডিও ভাইরাল, পরিচয় নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি

বরিশালে পুলিশ কনস্টেবলের ‘ইয়াবা সেবনের’ ভিডিও ভাইরাল, পরিচয় নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি

Reporter
প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬

‘মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে সরকার। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযানে মাদকসহ গ্রেপ্তার হচ্ছেন অনেকে। তবে এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পুলিশ সদস্যের ইয়াবা সেবনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে বরিশাল,বাবুগঞ্জ ও ঝালকাঠিতে ব্যাপক আলোচনা—সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে ইয়াবা সেবন করতে দেখা যায়। ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিকে বাংলাদেশ পুলিশের কনস্টেবল রাসেল সরকার বলে দাবি করে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। তবে ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি তিনি নন—এমন দাবি করেছেন কনস্টেবল রাসেল নিজেই। ফলে ভিডিওটির সত্যতা ও পরিচয় নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।

সম্প্রতি ‘মেহেদি হাসান খোকা’ নামের একটি ফেসবুক প্রোফাইল থেকে ভিডিওটি প্রকাশের পর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে একজনকে ইয়াবা সেবন করতে দেখা যায় এবং পাশে থাকা আরেক ব্যক্তিকে শামীম ইয়াবা সেবনের প্রস্তুতি নিতে দেখা যায়। তবে ভিডিওটি কবে, কোথায় ধারণ করা হয়েছে—তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

জানা গেছে, রাসেল সরকার বর্তমানে ঝালকাঠি পুলিশ লাইনে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত। বর্তমানে তিনি ছুটিতে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বরিশাল থেকে পরিচালিত একটি অনলাইন পেজে রাসেলের বক্তব্যসংবলিত আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। সেখানে রাসেল দাবি করেন, ইয়াবা সেবনকারী ব্যক্তি তিনি নন। তার ভাষ্য, ‘ইয়াবা সেবনকারী আমি রাসেল নই, আমার চেহারায় মিল থাকায় অন্য একজনকে আমার নামে রাসেল বলে মিথ্যা ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে।’

রাসেল আরও দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ব্যবহার করে কয়েকজন তাকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করেছে। তিনি তাদের কথায় সাড়া না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাসেল সরকার বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বকশীর চর এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি এয়ারপোর্ট থানাধীন এলাকার আইয়ুব আলী সরকারের ছেলে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, পুলিশের চাকরিতে যোগদানের পর রাসেল এলাকায় প্রভাব বিস্তার শুরু করেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে বলেও দাবি করেন তারা। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতে তাকে বরিশাল এপিবিএনে শাস্তিমূলকভাবে বদলি করা হয়েছিল। পরে তিনি ঝালকাঠি রেঞ্জ পুলিশের অধীনে কর্মরত হন।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, রাসেলের পুলিশের চাকরির প্রভাবকে কেন্দ্র করে তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন।

এদিকে স্থানীয় কয়েকজন জনপ্রতিনিধি দাবি করেছেন, রাসেল ছুটিতে বাড়িতে এলে মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।

অভিযোগ রয়েছে, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার আগে সেটি প্রকাশ না করার জন্য কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীকে অর্থ দেওয়া হয়েছে।

ইয়াবা সেবনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কনস্টেবল রাসেল সরকার বলেন, “কোন ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, আমি জানি না। এই ভিডিও দিয়ে অনেকে আমাকে ব্ল্যাকমেইল করতে চেয়েছে। আমি তাদের কথায় সাড়া না দেওয়ায় আমাকে নিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি আমি নই।”তিনি আরও জানান আমার বিরুদ্ধে যারা ভিডিও ছেড়েছে আর হোয়াটসআপে টাকা দাবি করেছে আমি তাদের বিরুদ্ধে থানায় সাধারন ডায়েরি করেছি।

তিনি আরও বলেন, “আমি যদি ইয়াবা সেবন করে থাকি, তাহলে আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন।”

তবে এয়ারপোর্টে আওয়াতাধীন বাবুগঞ্জ বক্সীচর এলাকায় পুলিশ কনেস্টেবল রাসেল সরকারের ইয়াবা সেবনের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল বিষয়ে বরিশাল এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাখাওয়াত বলেন আমার জানা নেই আমি খোজ খবর নিয়ে বলতে পারব।

এ বিষয়ে ঝালকাঠির পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লা বলেন, কোনো পুলিশ সদস্য মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাসেলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে এবং পুলিশ সদস্যদের কেউ মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকলে বিষয়টি কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির সত্যতা, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তির পরিচয় এবং ভিডিওটি কখন ও কোথায় ধারণ করা হয়েছে—এসব বিষয়ে এখনো তথ্য পাওয়া যায়নি।তবে একটি রুমের ভিতর বসে তারা মাদক সেবন করছে তা নিশ্চিত হওয়া গেছে।তবে স্থানীদের বরাতে জানাযায় জায়গাটি স্কুলের পাঁশে একটা ক্লাবের ভিতর বলে মনে হচ্ছে।

একজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রশ্ন—যারা মাদক নিয়ন্ত্রণে অভিযান পরিচালনা করবেন, তাদের কারও বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠলে সেটিও যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 Raytahost.Com
Design by RaytaHost