
বরিশাল নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কেডিসি (কউঈ) এলাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাদকের কারবার। দিনরাত প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজাসহ নানা ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য। অভিযোগ উঠেছে, এই বিশাল মাদক সিন্ডিকেট ও নিয়ন্ত্রণকক্ষের নেপথ্যে রয়েছেন বরিশাল মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদা বেগম। স্থানীয়দের দাবি, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে এই ব্যবসা নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন ওই নেত্রী। তাঁর প্রত্যক্ষ ছত্রছায়ায় থাকার কারণেই এই বাণিজ্য কোনোভাবেই বন্ধ করা যাচ্ছে না বলে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কেডিসি এলাকার বেশ কয়েকটি নির্দিষ্ট পয়েন্টকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার মাদক বেচাকেনা চলছে। চিহ্নিত মাদক কারবারিরা এই নেত্রীকে ক্ষমতার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। ফলে আইন—শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি এড়িয়ে বা তোয়াক্কা না করেই প্রকাশ্যে চলছে তাদের এই অপতৎপরতা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই মাদকের হাটের কারণে দ্রুত ধ্বংসের মুখে পড়ছে স্থানীয় তরুণ ও যুবসমাজ। মাদকসেবীদের আনাগোনা বাড়ায় এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও সামাজিক অস্থিরতা চরম রূপ নিয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ পরিবার—পরিজন নিয়ে স্বাভাবিক ও নিরাপদ জীবনযাপন করতে পারছেন না। স্থানীয় কেউ এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে নানাভাবে হুমকি—ধমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে।
তবে মাদকের সাথে সম্পৃক্ততার সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে বরিশাল মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদা বেগম বলেন আমাদের কেউ মাদকের সাথে জড়িত না।আমি বা আমরা কেউ ই কেডিসি এলাকাতে থাকি না,আর বরিশালের সবাই জানে কেডিসিতে মাদকের আখড়া, আমার স্বামী আসছে সিটি নির্বাচন করবে এই জন্য আমাকে নিয়ে মিথ্যা অপবাদ ছড়াচ্ছে। আর যেহুতু আমার স্বামী নির্বাচন করবে তাই সবার সাথে মিলে আমাদের চলতে হয়।তবে আমি মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে আছি।প্র্সাশনের অভিযানে আমাকে জানানো হলে তাদের সাথে আমি সেখানে যাই।
ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জানান, প্রভাবশালীদের আস্কারা ও প্রত্যক্ষ মদদ বন্ধ না হলে কেবল চুনোপুঁটি গ্রেপ্তার করে কেডিসি এলাকাকে মাদকমুক্ত করা সম্ভব নয়। দ্রুত এই মাদক সিন্ডিকেট গুঁড়িয়ে দিতে এবং প্রভাবশালী মূলহোতা ফরিদা বেগমসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে আইন—শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।