
বরিশালে জেলা পুলিশের বাকেরগঞ্জ সার্কেল অফিসের সরকারি জমি দখল করে রাস্তা ও ভবন নির্মাণের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর একটি পক্ষ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সরকারি জমি দখলের অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্ত, চার্জশিট এবং বিভাগীয় অনুসন্ধানকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।বরিশাল সাবেক পুলিশ সুপার মোঃ অহেদুজ্জাম্মান কে নিয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট বিভ্রান্তকর তথ্য ছড়াচ্ছে একটি মহল। বিভাগীয় অনুসন্ধানকে কেন্দ্র করে সত্যতা সামনে আসতে ভূমি দস্যুরা মিথ্যা তথ্য নিয়ে সোশ্যালমিডিয়াতে অপ—প্রচার চালাচ্ছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট দেশের তৎকালীন অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে একদল ব্যক্তি বরিশাল কোতোয়ালি থানা সংলগ্ন নির্মাণাধীন বাকেরগঞ্জ সার্কেল অফিসের সীমানা প্রাচীরের ভেতরে প্রবেশ করে সরকারি জমি দখলের উদ্দেশ্যে পাকা দেয়াল নির্মাণের চেষ্টা করে। এ সময় তারা কয়েকটি গাছ কেটে নিয়ে যায় বলেও মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় বরিশাল জেলা পুলিশের পক্ষে পুলিশ পরিদর্শক (সশস্ত্র) সুবিমল চন্দ্র ঢালী কোতোয়ালি মডেল থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৫—৭ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, অভিযুক্তরা এর আগেও একই জমি দখলের চেষ্টা করেছিলেন। পরে স্থানীয়দের বাধার মুখে দেয়াল নির্মাণের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করে এবং পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
এদিকে, অভিযোগ রয়েছে যে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাজেদুল ইসলাম চার্জশিটে এজাহারভুক্ত কয়েকজনের নাম বাদ দেন। মামলার বাদীপক্ষ দাবি করেছে, তদন্তে অনিয়ম হয়েছে এবং এ বিষয়ে তাদের কাছে বিভিন্ন তথ্য—প্রমাণ রয়েছে। তারা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের একটি প্রাথমিক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অনুসন্ধানে কর্মরত সাব—ইন্সপেক্টর আবুল বাশারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪২৭, ৪৪৭ এবং সম্পূরক চার্জশিটে ৩৭৯ ধারার বিষয়ও উল্লেখ রয়েছে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ আলাউল হাসান, বলেন, জেলা পুলিশের সরকারি জমি দখলের চেষ্টা হয়েছিল। স্থানীয়দের সহযোগিতায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পুলিশ সুপারের নির্দেশে ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বরিশালের পুলিশ সুপার এ, জেড, এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “বরিশাল জেলা পুলিশের এক ইঞ্চি সরকারি জমিও অবৈধভাবে দখল হতে দেওয়া হবে না। এটি একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি। প্রয়োজন হলে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”