
গোলাম পরওয়ার বলেন, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট সমাধানে বিরোধীদলের পক্ষ থেকে সরকারকে বারবার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চলমান সংকট নিরসনে বিরোধীদল তাদের নিজ খরচে এক্সপার্ট নিয়োগ করে, সেই এক্সপার্টের পরামর্শ ও মতামত সরকারের কাছে প্রস্তাব আকারে পৌঁছে দিয়েছে। তবে বিরোধীদলের সেই প্রস্তাবে কোনো ভ্রুক্ষেপ করেনি সরকার।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, জামায়াতসহ বিরোধীদল সরকারকে সহযোগিতা করতে চায়, কিন্তু সরকার শুধু বিরোধিতার স্বার্থেই বিরোধীদলের বিরোধিতা করছে।
ছায়া মন্ত্রিসভা সরকারকে সহযোগিতা করছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমরা বিরোধী দলে বসার পরে এ পর্যন্ত সরকারকে বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় অন্তত ৩৮টি প্রস্তাবনা দিয়েছি। সরকারকে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করার জন্যই ওই প্রস্তাবনাগুলো দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সরকার জামায়াতসহ বিরোধীদলের কোনো প্রস্তাবনা এখন পর্যন্ত গ্রহণ করেনি। সরকারের পক্ষ থেকে বিরোধীদলের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা করার যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা হাস্যকর।’
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘আমি বলব যে, বিএনপি হলো অকৃতজ্ঞ। ২০০১ সালের নির্বাচনের পরে আধিপত্যবাদী শক্তিকে ঠেকাতে সেই সময় সার্বিক সবকিছু বিবেচনা করে আমরা পাঁচটি বছর বিএনপির সঙ্গে ছিলাম। দেশের কল্যাণের স্বার্থে, আধিপত্যবাদী শক্তি মোকাবিলা করার স্বার্থে জামায়াত সেই সময় বিএনপিকে সমর্থন করে। এর আগে বিএনপি ৯১—এ সরকার গঠন করেছিল। সেখানেও আমরা বিএনপিকে সহযোগিতা ও সমর্থন দিয়েছিলাম। কিন্তু সরকার গঠন করার পরই বিএনপি জামায়াতের তৎকালীন কেন্দ্রীয় আমিরকে কারাগারে পাঠিয়েছিল। ঢাকা, রাজশাহী, খুলনায় আমাদের কর্মীদের শহীদ করেছিল। ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা আমাদের শিবিরের ছেলেদের হত্যা করেছিল। আমরা বারবার বিএনপিকে সহযোগিতা করতে চেয়েছি। আমরা চ্যালেঞ্জ করছি, এখনো তারা জামায়াতকে নিয়ে বিরোধিতার স্বার্থে বিরোধিতা করছে। বিএনপি হলো অকৃতজ্ঞ দল। বিএনপির এই বিরোধিতা অনেকটা সেই প্রবাদের মতো— ‘নেই কাজ তো খই ভাজ।’
সরকারের সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘বিএনপি এখন বলছে যে জামায়াত নাকি আওয়ামী লীগকে মাঠে নামতে ইন্ধন দিচ্ছে। সরকার, গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থাকা অবস্থায় রাজনীতি নিষিদ্ধ একটি দলের কর্মীরা ঢাকাসহ সারাদেশে মিছিল করল কীভাবে? সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে না জানিয়ে তাদের ইন্ধন না থাকলে এরকম একটি কর্মসূচি কোনো রাজনৈতিক দল পালন করবে, এটা কখনো হয়? এটা কি সম্ভব? আমরা চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের কোনো যোগাযোগ বা আঁতাতের খবর আপনাদের কাছে থাকলে তা প্রকাশ করুন। বিরোধিতা করতে হবে তাই, বিরোধিতা করবেন না।’
এর আগে ঝিনাইদহ শহরের হামদহ এলাকায় জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে আয়োজিত শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন মিয়া গোলাম পরওয়ার। অনুষ্ঠানে ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের আমির ও ঝিনাইদহ— ২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর, জেলা সেক্রেটারি আব্দুল আওয়াল, কুষ্টিয়া—৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজাসহ দলটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।