
মোটরসাইকেলে চড়ে প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্রের মহড়া এবং পরে নদীর তীরে গিয়ে একে অপরের হাতে সেই অস্ত্র তুলে দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ঘিরে বরিশাল নগরীতে আতঙ্ক ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে কয়েকজন তরুণকে মোটরসাইকেলে চলাচল করতে দেখা যায়। তাদের হাতে বড় আকারের ধারালো অস্ত্র রয়েছে। পরে তারা নদীর তীরে গিয়ে একে অপরের হাতে অস্ত্র তুলে দেন। এ সময় একজনকে অস্ত্রটি কোমরে রাখার চেষ্টা করতেও দেখা যায়। অস্ত্রটি আকারে বড় হওয়ায় তিনি সেটি ঠিকমতো কোমরে রাখতে পারেননি।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী। একই সঙ্গে অস্ত্রগুলো উদ্ধার এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
অর্ধশতাধিক কিশোর গ্যাং সক্রিয় থাকার অভিযোগ
নগরীর বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অর্ধশতাধিক কিশোর গ্যাং সক্রিয় থাকার অভিযোগ রয়েছে। এসব গ্রুপের সদস্যদের বড় একটি অংশ উঠতি বয়সি তরুণ। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত দামি মোটরসাইকেল নিয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক, পাড়া—মহল্লা ও নদীতীরবর্তী এলাকায় তাদের ঘোরাফেরা ও মহড়া দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এসব গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক, ছিনতাই, মারামারি ও ইভ টিজিংসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপের মাধ্যমে তারা দ্রুত একত্রিত হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, নিজেদের দাপট প্রদর্শনের জন্য অনেক তরুণ মোটরসাইকেল, অস্ত্র ও দলবদ্ধ চলাচলের ছবি—ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। এতে অন্য কিশোরদের মধ্যেও গ্যাং সংস্কৃতিতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।
সুশাসনের জন্য নাগরিক—সুজনের বরিশাল জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রনজিৎ দত্ত বলেন, প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন ও মহড়া সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করছে। এসব গ্রুপের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও দৃশ্যমান প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
এর আগে বরিশাল সদর উপজেলার সাপানিয়া গ্রামের একটি মাছের ঘের থেকে দুই ব্যক্তিকে ১৪টি বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্রসহ আটকের ঘটনা ঘটেছিল। এরপরও নগরীতে অস্ত্র হাতে তরুণদের এমন ভিডিও সামনে আসায় অস্ত্রের উৎস এবং কারা এসব অস্ত্র সরবরাহ করছে—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
নগরবাসীর দাবি, বিচ্ছিন্নভাবে কেবল গ্যাং সদস্যদের আটক না করে তাদের মূলহোতা, অস্ত্রের উৎস, মাদক সরবরাহকারী এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের সংগঠিত করার সঙ্গে জড়িতদেরও শনাক্ত করতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার বলেন, ভিডিওটি পুলিশের নজরে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সময়ে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের আটক করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। বর্তমানে কিশোর গ্যাংয়ের কর্মকাণ্ডের তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। তাদের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে পুলিশের পক্ষ থেকে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।