
বরিশাল জেলা যুবদলের নতুন কমিটি গঠনকে ঘিরে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও তৎপরতা। দীর্ঘদিন ধরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা হিসাব-নিকাশ চলছে। এরই মধ্যে জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাফিজ আহমেদ বাবলুকে নতুন কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখতে চান বলে দাবি করেছেন তৃণমূলের একাংশ।
সাম্প্রতিক সময়ে বরিশাল জেলা যুবদলের সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে একাধিক নেতার নাম আলোচনায় এসেছে। এর মধ্যে অ্যাডভোকেট হাফিজ আহমেদ বাবলুর নামও রয়েছে। তবে নতুন কমিটির নেতৃত্ব এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি; শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় যুবদলের সিদ্ধান্তেই কমিটি নির্ধারিত হবে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকালে হাফিজ আহমেদ বাবলু সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন। তাদের দাবি, দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের কারণে তিনি মাঠপর্যায়ে পরিচিতি পেয়েছেন।
নেতাকর্মীদের একটি অংশের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও হাফিজ আহমেদ বাবলু দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকায় বিভিন্ন সময়ে দলের নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তাও দিয়েছেন বলে তারা জানান।
সম্প্রতি বরিশালে যুবদলের একটি কর্মসূচিতে মহানগর যুবদলের এক নেতার অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাফিজ আহমেদ বাবলু।
তৃণমূলের নেতাকর্মীদের বক্তব্য, নতুন কমিটিতে এমন নেতৃত্ব চান যারা সংগঠনের দুঃসময়ে মাঠে ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও নেতাকর্মীদের পাশে থাকবেন। তাদের মতে, হাফিজ আহমেদ বাবলুর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক ভূমিকা বিবেচনায় তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া হলে সংগঠন আরও সক্রিয় হতে পারে।
দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়ে হাফিজ আহমেদ বাবলুকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার কথা বলা হচ্ছে। তার সমর্থকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৯ সালে তিনি বিএম স্কুল ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হন। পরে কাউনিয়া ইউনিয়ন কমিটির সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯৭ সালে বরিশাল কলেজ শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি এবং ১৯৯৯ সালে বরিশাল জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন বলে তার রাজনৈতিক পরিচিতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০০২ সালে বরিশাল কলেজ ছাত্র সংসদের এজিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচিত হন বলেও দাবি করা হয়েছে।
পরবর্তীতে ২০০৩ সালে বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালের কাউন্সিলের পর তিনি জেলা ছাত্রদলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন বলে তার অনুসারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহসাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান বলেও তার রাজনৈতিক পরিচিতিতে উল্লেখ রয়েছে।
২০১৭ সালে ঘোষিত বরিশাল দক্ষিণ জেলা যুবদলের কমিটিতে হাফিজ আহমেদ বাবলুকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়—সেসময় কেন্দ্রীয় যুবদলের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল।
হাফিজ আহমেদ বাবলু আইন পেশার সঙ্গেও যুক্ত। সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাকে বরিশাল জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এপিপি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে বরিশালের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবেও তার মনোনয়নের খবর প্রকাশিত হয়েছে।
বরিশাল জেলা যুবদলের নতুন কমিটিতে কারা নেতৃত্বে আসছেন—এ নিয়ে এখনো নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় একাধিক নেতার নাম থাকলেও কোনো নামই চূড়ান্ত হয়নি।
তৃণমূলের একাংশের প্রত্যাশা, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক ভূমিকা ও মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তা বিবেচনায় অ্যাডভোকেট হাফিজ আহমেদ বাবলুকে নতুন কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হবে। এখন কেন্দ্রীয় যুবদলের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন বরিশাল জেলা যুবদলের নেতাকর্মীরা।