পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার খামারগুলোতে এখন ব্যস্ততার শেষ নেই। নাওয়া-খাওয়া ভুলে দিনরাত কোরবানির পশুর পরিচর্যায় সময় পার করছেন স্থানীয় খামারিরা। ইতোমধ্যে উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত পশু বাইরের জেলায় সরবরাহের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
প্রস্তুত ১,৫৩০টি গবাদিপশু
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার কাউখালীতে মোট ৭২৪ জন খামারি কোরবানির বাজার লক্ষ্য করে পশু প্রস্তুত করেছেন। খামারগুলোতে লালন-পালন করা হয়েছে মোট ১ হাজার ৫৩০টি গবাদিপশু।
উপজেলায় এবার কোরবানির পশুর মোট চাহিদা ধরা হয়েছে ১ হাজার ৪৫৮টি। ফলে চাহিদার তুলনায় পশু বেশি থাকায় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বাইরের এলাকাতেও পশু সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
খাদ্যের চড়া দামে দুশ্চিন্তায় খামারিরা।
সরেজমিনে, উপজেলার বিভিন্ন খামার ঘুরে দেখা যায়, গরু মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন মালিকরা। তবে পশুখাদ্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে তাদের মাঝে কিছুটা উদ্বেগ কাজ করছে।
উঝিয়ালখান গ্রামের খামারি উত্তম মৃধা জানান, “সারা বছর অনেক কষ্ট করে গরু পালন করি। ঈদ ঘিরেই আমাদের সব আশা। কিন্তু এবার খাবারের দাম অনেক বেশি হওয়ায় খরচ বেড়ে গেছে। ভালো দাম পেলে হয়তো কিছুটা লাভ হবে।
বাশরী গ্রামের খামারি লোকমান হোসেন ও আয়রন ঝাপসি গ্রামের মোঃ জসিম উদ্দিন একই উদ্বেগের কথা জানান। তারা বলেন, বর্তমানে মাঠে ঘাস কম থাকায় বাজার থেকে কেনা ভুসি, খড় ও দানাদার খাবারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। গো-খাদ্যের অস্বাভাবিক দাম খামারিদের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
খামারিদের দেওয়া তথ্যমতে, আকার ও ওজনভেদে প্রতিটি গরুর দাম হাঁকানো হচ্ছে দেড় লাখ টাকা থেকে শুরু করে ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত। সুস্থ ও মানসম্মত পশু বাজারে তুলতে খামারিরা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ সোমা সরকার বলেন,কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে আমরা উপজেলার প্রতিটি খামার নিয়মিত পরিদর্শন করছি। গবাদিপশুর রোগবালাই সম্পর্কে খামারিদের সচেতন করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আমরা আশা করছি এবার কাউখালীতে পর্যাপ্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত কোরবানির পশুর সরবরাহ থাকবে।