বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ১১:৪০ অপরাহ্ন

শিরোনাম
বরিশালে ২০০ টাকার জন্য প্রান গেল রোগীর ভাষানচর ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম চুন্নুর ইন্তেকাল আগৈলঝাড়ায় থানার এসআই মনির ক্লোজ হানিট্রাপে ফেলার অভিযোগে বিএনপি ও যুবলীগ ৩ নেতা গ্রেফতার কুকুর-বিড়ালের কামড় বা আঁচড় দিলেই ছুটতে হচ্ছে বরিশাল, ক্ষোভে ফুঁসছে সাধারণ মানুষ কাউখালী পরিসংখ্যান অফিসে জনবল সংকট এক কর্মকর্তাই চালাচ্ছেন পুরো অফিস বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ওএসডিকৃত এসেসর মোয়াজ্জেমের পুনর্বহালের চেষ্টার অভিযোগ হামের টিকার পরিবর্তে শিশুকে দেওয়া হলো জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন অতঃপর… একনেকে ৩৬ হাজার ৬৯৬ কোটি টাকার ৯ প্রকল্প অনুমোদন নানাবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে খালে ডুবে দুই ভাইয়ের মৃত্যু
বরিশালে ২০০ টাকার জন্য প্রান গেল রোগীর

বরিশালে ২০০ টাকার জন্য প্রান গেল রোগীর

বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে মাত্র ২০০ টাকা বকশিসের বিনিময়ে এক মুমূর্ষু রোগীর অক্সিজেন মাস্ক খুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অক্সিজেন বিচ্ছিন্ন করার মাত্র দুই মিনিটের মাথায় দিপালী সিকদার (৪০) নামে ওই নারী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এই পৈশাচিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ বিকেলে হাসপাতাল চত্বরে রণক্ষেত্র তৈরি হয়। উত্তেজিত স্বজন ও হাসপাতাল স্টাফদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে ব্যাহত হয় সাধারণ চিকিৎসাসেবা।

নিহত দিপালী সিকদার বরিশাল মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব খরকি গ্রামের শংকর শিকদারের স্ত্রী। স্বজনরা জানান, তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে আজ দুপুর পৌনে তিনটার দিকে তাকে শেবাচিম হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হয়। রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে দ্রুত করোনা বিল্ডিংয়ের মেডিসিন ইউনিটে স্থানান্তর করেন এবং জরুরি ভিত্তিতে টানা দুই ঘণ্টা নিরবিচ্ছিন্ন অক্সিজেন দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু শয্যা সংকট ও অক্সিজেন পয়েন্টের অব্যবস্থাপনার কারণে তাকে একটি ট্রলিতে রেখেই অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছিল।

নিহতের ভাই মিলন হাওলাদারের অভিযোগ, দিপালী যখন অক্সিজেনের সহায়তায় বাঁচার লড়াই করছিলেন, ঠিক তখনই মেডিসিন ইউনিট-১ এর কর্মচারী সোহেল সেখানে উপস্থিত হন।

মিলন জানান,পার্শ্ববর্তী অন্য এক রোগীর স্বজনরা ট্রলিটি নেওয়ার জন্য সোহেলকে মাত্র ২০০ টাকা দেয়। টাকার লোভে অন্ধ হয়ে সোহেল আমার বোনের ছটফটানি উপেক্ষা করেই অক্সিজেনের লাইনটি বিচ্ছিন্ন করে দেয়। আমরা হাত-পা ধরলেও সে শোনেনি। অক্সিজেন খোলার ঠিক দুই মিনিটের মাথায় আমার বোন মারা যায়। এটা মৃত্যু নয়, এটা খুন!

দিপালীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা অভিযুক্ত কর্মচারী সোহেলকে ধরে কলার চেপে ধরেন এবং টেনে-হিঁচড়ে বিচারের দাবি জানান। এক পর্যায়ে সোহেলকে গণধোলাই দেওয়া শুরু হলে হাসপাতালের অন্যান্য স্টাফরা কর্মচারীর পক্ষ নিয়ে স্বজনদের ওপর চড়াও হয়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়, যা পুরো হাসপাতাল এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। প্রাণভয়ে সাধারণ রোগীরা এদিক-ওদিক ছুটতে থাকেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান হাসপাতালের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যরা। দায়িত্বরত আনসার সদস্য নিঠুর রঞ্জন জানান,রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত স্বজনরা সোহেল নামের ওই কর্মচারীকে বেদম মারধর করছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় আমরা দ্রুত হস্তক্ষেপ করি এবং তাকে উদ্ধার করে পরিস্থিতি শান্ত করি। তবে রোগীটি আগে থেকেই গুরুতর শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন।

সংঘর্ষের পর পরই অভিযুক্ত কর্মচারী সোহেল হাসপাতাল থেকে পালিয়ে আত্মগোপন করেছেন। হাসপাতাল প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করলেও অভিযুক্তের বিষয়ে এখনো কোনো দাপ্তরিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিহত দিপালীর পরিবার এই ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ উল্লেখ করে হাসপাতালের পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের দাবি, সোহেলকে অবিলম্বে স্থায়ী বরখাস্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। সামান্য কিছু টাকার বিনিময়ে একজন মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার এই ঘটনা বরিশালের সচেতন মহলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 Raytahost.Com
Design by RaytaHost