রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ০১:৪৯ অপরাহ্ন

রাজাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫ দিন ধরে পানিহীন, রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি

রাজাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫ দিন ধরে পানিহীন, রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টানা পাঁচ দিন ধরে পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী, স্বজন, চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্মীরা। গভীর নলকূপের ভূগর্ভস্থ পাইপ ও হাউজিংয়ে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় পুরো হাসপাতালজুড়ে এই পানিসংকট তৈরি হয়েছে। এতে শৌচাগার ব্যবহারে সংকট, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ৫০ শয্যার এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামের উপসর্গসহ বর্তমানে ৮৮ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। পানি না থাকায় রোগী ও তাদের স্বজনদের পাশের খাল থেকে পানি এনে শৌচাগারে ব্যবহার করতে হচ্ছে। হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের কোয়ার্টারে থাকা অন্তত ৯টি পরিবারও একই সংকটে দিন কাটাচ্ছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৫৫ বছর আগে স্থাপিত গভীর নলকূপের মাধ্যমে হাসপাতালের পানি সরবরাহ চালু ছিল। পাঁচ দিন আগে প্রায় ১ হাজার ফুট গভীরে থাকা লোহার পাইপ ও হাউজিংয়ে ত্রুটি দেখা দিলে হঠাৎ করে পুরো সরবরাহ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়।

পানি সংকটে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ভর্তি রোগীরা। কয়েক দিন ধরে গোসল, শৌচাগার ব্যবহার ও প্রয়োজনীয় পরিষ্কার—পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা সম্ভব না হওয়ায় হাসপাতালের পরিবেশও অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেন রোগীর স্বজনরা।

রাজাপুর উপজেলার মঠবাড়ি এলাকার দিলরুবা আক্তার জানান, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত তার দেড় বছরের শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন। কিন্তু পানি না থাকায় চিকিৎসা শেষ হওয়ার আগেই বাড়ি ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছেন তিনি।

একই অভিযোগ করেন গালুয়া গ্রামের ফরিদা বেগম। তিনি বলেন, পাঁচ দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও পানি সংকটের কারণে স্বাভাবিকভাবেই হাসপাতালে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবুল খায়ের মাহমুদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই গভীর নলকূপে সমস্যা ছিল। নতুন পাম্প বসিয়েও সমাধান হয়নি, বরং দুটি পাম্প নষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমানে পাইপ পরিষ্কারের কাজ চলছে। তাতেও সমাধান না হলে বিকল্পভাবে পুকুর থেকে অস্থায়ী পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে। পুরোপুরি স্বাভাবিক পানি সরবরাহ চালু করতে নতুন গভীর নলকূপ স্থাপন প্রয়োজন হতে পারে, যা করতে ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে ফায়ার সার্ভিসের মাধ্যমে হাসপাতালে পানি সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 Raytahost.Com
Design by RaytaHost