
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদকের অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাস ও নাশকতা প্রতিরোধ এবং যৌতুক ও বাল্যবিবাহ নিরোধের লক্ষ্যে এক মতবিনিময় ও জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) বেলা সাড়ে এগারোটায় উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আসাদুজ্জামান।অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এস. এম. আহসান কবির, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ জসিম উদ্দিন, উপজেলা কৃষি অফিসার সোমা রানী দাস, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ সুব্রত কর্মকার, কাউখালী থানার ওসি (তদন্ত) এবাদ আলী, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নূরে জান্নাত, উপজেলা বিএনপি’র সিনিয়র সহ—সভাপতি মনিরুজ্জামান মিঞা, সাবেক সহ—সভাপতি শাহ ইমরান ফারুক, সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক, শিয়ালকাঠী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ নজরুল ইসলাম, প্রেস ক্লাবের সভাপতি রিয়াদ মাহমুদ সিকদার, সিনিয়র সাংবাদিক এনামুল হক এবং আরটিভির জেলা প্রতিনিধি রিয়াজ আহমেদ নাহিদসহ স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ।
উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এস. এম. আহসান কবির বলেন,কাউখালীকে মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক ব্যাধিমুক্ত করতে দল—মত নির্বিশেষে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বাল্যবিবাহ ও যৌতুকের মত ব্যাধি আমাদের সমাজকে পেছনে টেনে রাখছে। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে রাজনৈতিক ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবারকেও এগিয়ে আসতে হবে। আমরা উপজেলা প্রশাসনকে সার্বিক সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।
কাউখালী থানার ওসি (তদন্ত) এবাদ আলী বলেন,”উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এছাড়া বাল্যবিবাহের মতো অপরাধ রুখতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোনো অপরাধ বা নাশকতার চেষ্টা দেখলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাচ্ছি।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন,একটি সুন্দর ও নিরাপদ উপজেলা গড়তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সামাজিক অপরাধ দমন অত্যন্ত জরুরি। বাল্যবিবাহ ও যৌতুক প্রতিরোধে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। মাঠ পর্যায়ে সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি আইনের প্রয়োগ জোরদার করা হবে। শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতাদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় কাউখালীকে একটি দৃষ্টান্তমূলক উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
সবশেষে, মুক্ত আলোচনা পর্বে উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।