, , ,
দীর্ঘদিন পদোন্নতি বঞ্চিত থেকেও অপপ্রচারের শিকার পুলিশ কর্মকর্তা শাহনেওয়াজ খালেদ

দীর্ঘদিন পদোন্নতি বঞ্চিত থেকেও অপপ্রচারের শিকার পুলিশ কর্মকর্তা শাহনেওয়াজ খালেদ

Reporter
প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬

বাংলাদেশ পুলিশের ২৪তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের কর্মকর্তা মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ খালেদ (পিপিএম-সেবা) দীর্ঘ কর্মজীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দায়িত্ব পালন করলেও নিয়মিত পদোন্নতি ও মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি নানা সময়ে অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন।

বর্তমানে তিনি খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশে (কেএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হিসেবে কর্মরত। এর আগে তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি), ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), সিআইডি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দায়িত্ব পালন করেন।

পেশাগত দক্ষতা ও সফলতার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৫ সালে নরসিংদীতে একটি হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, ডাকাতি মামলার তদন্ত এবং অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ‘পিপিএম-সেবা’ পদকে ভূষিত হন।

নরসিংদীতে বেলাবো ও শিবপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সততা ও দক্ষতার সাথে আ’লীগের সময়ে ইউনিয়ন নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীকে জেতানোর জন্যব এবং খায়রুল কবীর খোকনকে মিছিল করতে দেয়ার অপরাধে নরসিংদী থেকে মহালছড়ি ব্যা টেলিয়নে পাঠানো হয়।

সেখানে তিন বছর পাঁচ মাস কর্মরত ছিলেন।তার অপরাধ ছিল তিনি যখন নরসিংদীতে দ্বায়িত্বে ছিলেন তার সময় বিএনপি নেতাদের মিছিল করতে দেওয়া ও নির্বাচনের আগ পর্যন্ত তাদের মোটর সাইকেল চলাচলতে না দেওয়া। তারপর আবার সেখান থেকে নোয়াখালী পিটিসিতে পাঠানো হয়, সেখানে থাকতে হয় দুই বছর।

শাহনেওয়াজ খালেদের ভাষ্য, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তাকে বিএনপিপন্থী কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এর ফলে ব্যাচে গ্রেডেশন ২০ হওয়া সত্ত্বেও তিনি এসপি পদে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হন। প্রথম দফায় ২৫ জন এবং পরবর্তী দফায় ৮০ জন কর্মকর্তা পদোন্নতি পেলেও তাকে বাদ দেওয়া হয়। পরে ২০১৮ সালে ২৫তম ব্যাচের সঙ্গে তার ব্যাচের ৬৯ জন কর্মকর্তাকে সুপারনিউমারারি পদোন্নতি দেওয়া হয়।

তিনি দাবি করেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক পরিচয়ের অভিযোগ তুলে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে। কখনও জামায়াত-শিবির, কখনও বিএনপিপন্থী কর্মকর্তা হিসেবে চিহ্নিত করে বিভিন্ন জেলায় বদলি করা হয়েছে এবং দীর্ঘ সময় পদোন্নতি আটকে রাখা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ২০২২ সালে হাটহাজারিতে সংঘর্ষে পাঁচ মাদ্রাসাছাত্র নিহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশ সদর দপ্তরের গঠিত তিন সদস্যের অনুসন্ধান কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি। তদন্ত প্রতিবেদনে দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করায় রাজনৈতিক মহলের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েন বলে তার দাবি।

২০২৩ সালে সাতকানিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অনিয়ম ও দুইজন নিহতের ঘটনায় তাকে সভাপতি করে তিন সদস্যে়র একটি কমিটি গঠন করে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স। উক্ত ঘটনায় অনুসন্ধান করে একটি প্রতিবেদন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে প্রেরণ করা হয়, যাতে সাতকানিয়ার তদানীন্তন ওসিকে নন-অপারেশনাল ইউনিটে পদায়নের সুপারিশসহ আরো দায়ী ব্যকক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যরবস্থা গ্রহণের জন্য্ বলায় তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীসহ অন্যান্যদরা রুষ্ট হন এবং আমার বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেয়ার জন্য তদানীন্তন মন্ত্রীর নিকট দাবী জানান।

ফেণী ফুলগাজী উপজেলা বিএনপির ভাইচ প্রেসিডেন্ট আবুল হোসেন বলেন ২০১১সালে ইউনিয়ন নির্বাচন আ’লীগের নেতা কর্মীরা আমার উপর হামলা তখন আমি ছাত্রদলের ভাইচ প্রেসিডেন্ট থাকা কালীন ইউনিয়ন নির্বাচন করে ছিলাম যদি তখনকার এই পুলিশ কর্মকর্তা আমাকে হামলার স্থান থেকে সরিয়ে নিয়ে সাহায্য না করত আমি হয়তো সেদিন মারা যেতাম।সে আমাকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে।আমি তার এই ঋণ কখনো শোধ করতে পারব না।তখন এই পুলিশ কর্মকর্তা সততার ও নিষ্ঠার সাথে দ্বায়িত্ব পালনকালে আ’লীগের দলীয় কোন্দলের কারনে বিশৃখোলা দেখা দিলে তিনটি উপজেলার নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন অফিস।

আর সেখানে ২০১১ সালে ফেণীর বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এই সৎ ও নির্ভিক কর্মকর্তা দূরদর্শিতার ভূমিকার কারণে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে বিএনপি প্রার্থী জিতে।তার ভূমিকার কারণে ফাজিলপুর, মটবী এবং ফরহাদনগর ইউনিয়ন নির্বাচন স্থগিত হয়। এর জন্যজ আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা তার বিরুদ্ধে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে মিছিল ও সমাবেশ করে। পরবর্তীতে উপনির্বাচনে তিনটিতেই বিএনপি প্রার্থী জয়লাভ করে।

এছাড়া ফেনীতে এএসপি (সদর) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ২০১১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন পরিচালনার সময় নিরপেক্ষ ভূমিকার কারণে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের বিরোধিতার মুখোমুখি হন।

শাহনেওয়াজ খালেদ আরও দাবি করেন, সিআইডিতে কর্মরত অবস্থায় অনৈতিক আর্থিক সুবিধা আদায়ে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাকে বদলির চেষ্টা করা হয়, যা পরে বাস্তবায়ন হয়নি।

একইভাবে বিভিন্ন সময়ে জমি, অর্থ কিংবা ব্যবসা-সংক্রান্ত যেসব অভিযোগ তার বিরুদ্ধে প্রচার করা হয়েছে, সেগুলোকে তিনি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে দাবি করেন।

তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যেসব অপপ্রচার চালানো হয়েছে, সেগুলোর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। দীর্ঘ কর্মজীবনে আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেছি এবং ভবিষ্যতেও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যেতে চাই।”

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 Raytahost.Com
Design by RaytaHost