
বরিশালের বিমানবন্দর থানাধীন ১ নম্বর রায়পাশা—কড়াপুর ইউনিয়নের শোলনা গ্রামে ক্রয়কৃত জমিতে ধান চাষকে কেন্দ্র করে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে দুই সহোদর গুরুতর আহত হয়ে শের—ই—বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ৭টার দিকে শোলনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।আহতরা হলেন, ওই এলাকার আবুল হোসেন ও তার খালাতো ভাই জাহিদ হোসেন সিকদার।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় বাসিন্দা মতিন শিকদারের ছেলে রুহুল আমিন সিকদার ২০২৫ সালের ২৪ জুন আবু জাফরের কাছ থেকে শোলনা মৌজার বিএস খতিয়ান নং—২৫১৬৩৫—এর ৪৪২ নম্বর দাগের ৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। এরপর থেকে তিনি ওই জমির দখলে রয়েছেন বলে দাবি করেন।
রুহুল আমিনের অভিযোগ, স্থানীয় ইয়াসিন খান, রেদওয়ানুল ইসলাম (রিতু), আব্দুল হালিম দেওয়ান, কাইয়ুম খান, ফিরোজ বেপারীসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩—৪ জন দীর্ঘদিন ধরে জমিটি দখলের চেষ্টা করে আসছিলেন। এ নিয়ে পূর্ব থেকেই বিরোধ ও মামলা চলমান রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, শনিবার সকালে অভিযুক্তরা ওই জমিতে ধান রোপণের চেষ্টা করলে রুহুল আমিন বাধা দেন। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে লোহার রড ও লাঠিসোটা দিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। তার চিৎকার শুনে আবুল হোসেন ও জাহিদ হোসেন সিকদার ঘটনাস্থলে এগিয়ে গেলে তাদের ওপরও হামলা করা হয়।
এতে আবুল হোসেনের ডান হাত ও পেটে এবং জাহিদ হোসেন সিকদারের কান ও ঘাড়ে গুরুতর আঘাত লাগে। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শের—ই—বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হামলার সময় তাদের কাছ থেকে নগদ অর্থ এবং দুটি উন্নতমানের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় রুহুল আমিন বিমানবন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্ত ইয়াসিন খান ও রেদওয়ানুল ইসলাম অতীতে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন এবং বর্তমানে নিজেদের একটি রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। এছাড়া পূর্বে পানির পাম্প চুরির ঘটনায়ও তারা পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।বিমানবন্দর থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।