
বরিশালের মুলাদীতে জমি দখলকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের চোখেমুখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে নারীসহ অন্তত আটজনকে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের সোনামদ্দিন বন্দর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা যায়, সোনামদ্দিন বন্দরের একটি জমি নিয়ে বোয়ালিয়া গ্রামের সিরাজ হাওলাদারের ছেলে আলম হাওলাদার এবং সাত্তার হাওলাদারের ছেলে শাহজাহান হাওলাদারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে একাধিকবার সালিস-বৈঠক হলেও বিরোধের কোনো সমাধান হয়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শুক্রবার সকালে শাহজাহান হাওলাদার ও তাঁর লোকজন বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘর নির্মাণ করতে গেলে আলম হাওলাদার বোয়ালিয়া পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ করেন। পরে পুলিশ বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষকে ঘর নির্মাণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, শনিবার সকালে পুলিশের নির্দেশ উপেক্ষা করে শাহজাহান হাওলাদার, তাঁর ছেলেরা ও তাঁদের সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘর নির্মাণ করতে যান। এ সময় আলম হাওলাদার ও তাঁর পক্ষের লোকজন বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন পাশের একটি মিল থেকে মরিচের গুঁড়া এনে তাঁদের চোখেমুখে ছিটিয়ে দেন। এতে তাঁরা দিশেহারা হয়ে পড়লে তাঁদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালানো হয়। এ সময় কয়েকজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়।
এ ঘটনায় আলম হাওলাদার (৫৫), তাঁর ভাই সিদ্দিকুর রহমান হাওলাদার (৫১), আবদুর রাজ্জাক হাওলাদার (৪৮) এবং সিদ্দিক হাওলাদারের স্ত্রী ফেরদৌসী বেগমসহ অন্তত আটজন আহত হন। স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে পাঁচজনকে ভর্তি করা হয় এবং তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সৈয়দ ফজলে রাব্বী জানান, আহত আলম হাওলাদার ও সিদ্দিকুর রহমান হাওলাদারের মাথার খুলি ভেঙে গেছে। তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে ইকবাল হাওলাদার। তাঁর দাবি, নিজেদের জমিতে ঘর নির্মাণ করতে গেলে প্রতিপক্ষ বাধা দেয়। এ সময় কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে দুই-তিনজন আহত হয়ে থাকতে পারেন। তবে সেখানে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। আহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এমন সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।