
পিরোজপুরের নেছারাবাদে বদলিজনিত আদেশের পর সরকারি পুকুর থেকে রাতের আঁধারে মাছ ধরে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত কর্মকর্তার নাম আল আমিন, যিনি উপজেলার জলাবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি তাকে একই উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়নে বদলি করা হয়।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে জলাবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিস সংলগ্ন সরকারি পুকুরে এ ঘটনা ঘটে। সরকারি মালিকানাধীন পুকুর থেকে রাতের অন্ধকারে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে মাছ লুটে নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং তারা বিক্ষোভ প্রকাশ করেন।
স্থানীয়রা জানান, নেছারাবাদ উপজেলার জলাবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিস সহকারী কর্মকর্তা আল আমিন সদ্য একই উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়নে বদলির আদেশ পেয়েছেন। এ খবর জানার পর ভূমি অফিস সংলগ্ন সরকারি পুকুরে প্রচুর মাছ থাকায় তিনি রাত আড়াইটার দিকে স্থানীয় কয়েকজন জেলে ও বাসিন্দাদের নিয়ে মাছ ধরে ভাগ-বাটোয়ারা করেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা শামসুল ইসলাম খান বলেন, ‘জলাবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সরকারি মালিকানাধীন পুকুরের মাছ তহশিলদার আল আমিন রাতের আঁধারে জেলেদের পারিশ্রমিক হিসেবে ৫০০০ টাকা মাছ ধরার চুক্তি করা হয়। সরকারের পুকুরের মাছ খেতে বাধা নেই কিন্তু রাতের আঁধারে মাছ ধরে নেওয়া চুরির শামিল। সরকারি মাছ ধরতে কিছু প্রক্রিয়া আছে সেটা মানা হয়নি।’
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জেলে খোকন দাস বলেন, ‘তহশিলদার আল আমিন স্যার আমাকে বলেছেন, পাঁচ হাজার টাকা দেব পুকুরের মাছ ধরে দিলে। আমি তার কথামতো সাতজন লোক ঠিক করে আড়াই বস্তা মাছ ধরে দিয়েছি। কিন্তু মাছ ধরার পরে আলামিন স্যার দুটি ছোট মাছ দিয়ে আমাকে পাঠিয়ে দিয়েছে। মজুরির টাকা এখনো হাতে পাইনি।’
জলাবাড়ি ৪নং ওয়ার্ডের গ্রাম চৌকিদার বিধান কুমার বলেন, ‘আমি রাতে মাছ ধরার খবর শুনে ভূমি অফিসে গিয়ে দেখি মাছ ভাগ-বাটোয়ারা হয়ে গেছে। সকালে ইউএনও স্যারকে ফোন দেই, তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে এ্যাসিল্যান্ড স্যারকে ফোন দেই। তিনি আমাকে বলেছেন, রাতে মাছ ধরার বিধান নেই বলে ফোনটি কেটে দেন। রাতের আঁধারে এভাবে সরকারি পুকুরের মাছ ধরা ঠিক হয়নি।’
এ ব্যাপারে বক্তব্য নেওয়ার জন্য জলাবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিস সহকারী কর্মকর্তা আল আমিনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।
জলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মেহেদী সরোয়ার বলেন, এভাবে একজন সরকারি কর্মকর্তা রাতের আঁধারে মাছ ধরে নেওয়া এক ধরনের চুরির শামিল। শুনেছি তিনি নাকি পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নে বদলি হয়েছেন, তাই মাছ ধরে নিয়ে গিয়েছেন। পূর্বেও তিনি এ ধরনের কাজ করেছেন। এছাড়াও তিনি সরকারি জায়গায় কচু চাষ করে বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার এ ধরনের কর্মকাণ্ডের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
নেছারাবাদ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রায়হান মাহামুদ বলেন, জলাবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নিজস্ব পুকুরে মাছ ধরার বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে রাতের আঁধারে মাছ ধরাটা তার ঠিক হয়নি। এখানে যদি কোনো অসঙ্গতি থেকে থাকে অবশ্যই আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।