সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৩ অপরাহ্ন
পিরোজপুরের কাউখালীতে হাট-বাজার ইজারাদারদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা হলেও দীর্ঘ পাঁচ বছরেও আদায় হয়নি প্রায় ৬০ লাখ টাকার সরকারি রাজস্ব। এতে যেমন রাজস্ব আদায়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তেমনি ভেঙে পড়েছে বাজার ব্যবস্থাপনাও।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১৪২৭ বঙ্গাব্দে টেন্ডারের মাধ্যমে কাউখালী বন্দর হাট-বাজার এক বছরের জন্য ৬০ লাখ ৬ হাজার ৫৭৬ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়। সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ইজারা পান তৎকালীন জাতীয় পার্টির স্থানীয় নেতা শাহ আলম নসু। তিনি আংশিক অর্থ জমা দিলেও পুরো টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেননি। পরে ২০২১ সালের ১৫ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে ২২ লাখ ৬ হাজার ৮৫০ টাকা আদায়ে সার্টিফিকেট মামলা দায়ের করা হয়। কিছু অর্থ পরিশোধ করলেও এখনও তার কাছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৭৬ টাকা বকেয়া রয়েছে। বর্তমানে তিনি পলাতক।
১৪২৮ বঙ্গাব্দে একই বাজারের ইজারা পান হারুন অর রশিদ খান। তার বিরুদ্ধেও ২০২২ সালে ৩৫ লাখ ৭৪ হাজার ১ টাকা আদায়ে সার্টিফিকেট মামলা করা হয়। পরবর্তীতে তিনি আদালতে রিট করলে স্থগিতাদেশ পান। তবে এখনও তার কাছে ২৪ লাখ ২৪ হাজার ১ টাকা বকেয়া রয়েছে।
অন্যদিকে ১৪২৯ বঙ্গাব্দে ৭০ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বাজার ইজারা পান নাঈমুল ইসলাম। তিনিও পুরো অর্থ জমা না দিয়ে ২৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা বকেয়া রাখেন। ২০২৩ সালে তার বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট মামলা দায়ের করা হয় এবং বর্তমানে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বারবার নোটিশ, তাগিদ এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেও বকেয়া রাজস্ব আদায় সম্ভব হয়নি। পলাতক, আইনি জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতায় সরকারি পাওনা আদায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, দুইজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় রাজস্ব আদায়ে সব ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে কাউখালী বাজার ব্যবস্থাপনা বর্তমানে চরম দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। শুক্রবার ও সোমবার হাটের দিনে বাজার এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করায় পথচারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। ফলে বাজারে প্রবেশ কঠিন হয়ে পড়েছে এবং প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং সরকারি রাজস্ব আদায়ে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাবে।
Leave a Reply