সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১৮ অপরাহ্ন
কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ছে। জেল খাটতে কেমন লাগে, খুন করলে জেলে যাওয়া যাবে সেই কৌতূহল থেকে ফতুল্লায় ১১ বছরের শিশু হোসাইনকে নির্মম ভাবে হত্যা করেছে তারই সমবয়সি কিশোর অপরাধীরা।
গত ৪৮ ঘণ্টায় ঘটনার সাথে জড়িত ছয় কিশোর অপরাধীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত এবং এক অপরাধীর আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে এমনই অবিশ্বাস্য ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে বলে জানালেন নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, গত (২৪ এপ্রিল) ফতুল্লার রেলস্টেশন সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে অজ্ঞাত এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে নিহতের স্বজনরা এলে লাশ শনাক্ত করে। নিহত হোসাইন তার বাবা সুমনের সঙ্গে শহরে ফুল বিক্রি করত। গত ১৮ এপ্রিল সকাল থেকে সে নিখোঁজ ছিল। পরবর্তীতে জানা যায়, ফতুল্লা রেলস্টেশন সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়মিত আড্ডা দেওয়া ও মাদক সেবনকারী কয়েকজন কিশোর তাকে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে হত্যা করে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, ঘটনার দিন সাইফুল, তানভীর ও ইউনুস নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে যে, খুন করলে জেলে যেতে হয়; আর সেই অভিজ্ঞতা নেওয়ার ইচ্ছা থেকেই তারা হত্যার পরিকল্পনা করে।
পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী পরিত্যক্ত ওই বাড়িতে আগেই ছুরি-চাকু রেখে আসে। পরে পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া হোসাইনকে টার্গেট করে গাঁজা সেবনের প্রলোভন দেখিয়ে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিল তাদের আরও তিন বন্ধু রাহাত, হোসাইন ও ওমর। পরে সবাই মিলে তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে পরিত্যক্ত ওই বাড়িতে লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
এদিকে হোসাইনের লাশ উদ্ধারের পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রথমে ইয়াসিনকে গ্রেফতার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে আরও পাঁচ কিশোরকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, এঘটনায় মোট ছয়জনকে গ্রেফতার করাচ হয়েছে। এর মধ্যে ৪ জন এজাহারভুক্ত, তদন্তে আরও ২ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। পরে মামলার এজাহারনামীয় ১ নাম্বার আসামি ইয়াসিন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। এঘটনায় এখনও একজন পলাতক রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
Leave a Reply