শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ০৩:১৫ পূর্বাহ্ন

মঞ্চ সাজিয়েও উদ্বোধন হয়নি বরিশাল বাণিজ্য মেলা

মঞ্চ সাজিয়েও উদ্বোধন হয়নি বরিশাল বাণিজ্য মেলা

বরিশালে জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পরও আদালতের নির্দেশে শেষ মুহূর্তে স্থগিত হয়ে গেল বহুল আলোচিত ‘গ্রামীণ কুটির শিল্প পণ্য ও উদ্যোক্তা মেলা-২০২৬’।

নগরীর পরেশ সাগর মাঠে আয়োজন করা এই বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনারকে প্রধান অতিথি এবং জেলা প্রশাসককে বিশেষ অতিথি করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। মঞ্চ নির্মাণ, ব্যানার-ফেস্টুন, স্টল সাজসজ্জা ও অতিথি আপ্যায়নের সব আয়োজন শেষ হলেও উদ্বোধনের আগমুহূর্তে পুরো আয়োজন থেমে যায়।

মেলার আয়োজন করেন বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ও বিএনপি নেতা এবায়দুল হক চান। তবে আয়োজন ঘিরে শুরু থেকেই নানা আলোচনা ও সমালোচনা ছিল নগরজুড়ে। অভিযোগ উঠেছে, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ অনেক ব্যক্তিকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট জেলার মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদেরও কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত ছিলেন না। মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নিজেও নিমন্ত্রণ না পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পরেশ সাগর মাঠ এলাকায় ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা স্টল সাজিয়ে পণ্য প্রদর্শনের প্রস্তুতি নেন। মঞ্চে অতিথিদের নাম সম্বলিত ব্যানারও টানানো হয়। কিন্তু বিকেলের দিকে আদালতের আদেশের খবর পৌঁছালে হঠাৎ করেই থমকে যায় পুরো আয়োজন।

আদালতের নথি অনুযায়ী, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সাধারণ শাখা থেকে জারি করা এক চিঠিতে জানানো হয়, মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নং-৬২৯১/২০২৬ এর নির্দেশনার আলোকে ‘গ্রামীণ কুটির শিল্প পণ্য ও উদ্যোক্তা মেলা-২০২৬’ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ২১ মে ২০২৬ তারিখে সহকারী কমিশনার (সাধারণ শাখা) মো. মাহফুজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়।

মেলা স্থগিত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অংশগ্রহণকারী অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা। তাদের অভিযোগ, স্টল ভাড়া, পরিবহন ও পণ্য আনার পেছনে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করেও শেষ মুহূর্তে তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

নগরবাসীর একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, বিভাগীয় পর্যায়ের এমন একটি আয়োজনের ক্ষেত্রে কেন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সমন্বয় ছিল না। আদালত পর্যন্ত বিষয়টি গড়ানোর পেছনের কারণ নিয়েও চলছে আলোচনা।

এ বিষয়ে বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি এবায়দুল হক চানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমনও এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, আয়োজকরা আদালতের নির্দেশনা পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সচেতন মহলের মতে, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের প্রসারে এ ধরনের আয়োজন প্রয়োজন হলেও তা হতে হবে প্রশাসনিক সমন্বয়, আইনি স্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক সৌজন্য বজায় রেখে। অন্যথায় এমন আয়োজন বিতর্কের জন্ম দেবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সাধারণ উদ্যোক্তারাই।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 Raytahost.Com
Design by RaytaHost