বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
মাদারীপুরের ক্লুলেস হত্যা মামলার আসামি ঝালকাঠি থেকে গ্রেপ্তার বরিশালে চিকিৎসকের জমি দখলে নিতে প্রতিপক্ষের পায়তারা, প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানও ব্যাহত! চিকিৎসকের ওপর হামলার প্রতিবাদে উজিরপুরে মানববন্ধন টপটেন জেনারেল হাসপাতালে মঠবাড়িয়া ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যু কাজিরহাট পুলিশের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার বরিশালে আটকে থাকা ২০০ ভবনের প্ল্যান হস্তান্তর এক ইনজেকশন ১৫ হাজার টাকা, আইসিইউতে ছেলেকে নিয়ে নিরুপায় আসলাম মেহেন্দিগঞ্জে গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা মূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সেনা কর্মকর্তা তানজিম হত্যা : ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৯ জনের যাবজ্জীবন বরিশালে হামে আরও ২ শিশুর মৃত্যু
বরিশালে চিকিৎসকের জমি দখলে নিতে প্রতিপক্ষের পায়তারা, প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানও ব্যাহত!

বরিশালে চিকিৎসকের জমি দখলে নিতে প্রতিপক্ষের পায়তারা, প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানও ব্যাহত!

বরিশাল নগরীর সদর রোড এলাকার একটি মূল্যবান সম্পত্তি দখলকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। জমির বৈধ মালিক দাবি করে অধ্যাপক ডা. এ.কে.এম আমিনুল হক অভিযোগ করেছেন, জে এল নং-৪৯ ও এসএ খতিয়ান ৮৬ সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে মোঃ কামরুল হাসান ইমন (গং) অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন। এ ঘটনায় আদালতের নির্দেশনায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিবাদীপক্ষের বাধায় তা ব্যাহত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, বুধবার (২০ মে) সকাল ১০টায় আদালতের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে বরিশাল সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার জন্য প্রস্তুতি নেয় প্রশাসন।

এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ পুলিশ, সিটি স্পেশাল ব্রাঞ্চ (সিটিএসবি), বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে ‘গোপনীয়/জরুরি’ স্মারকে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। স্মারকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়।

 

অধ্যাপক ডা. এ.কে.এম আমিনুল হক দাবি করেন, ২০১৮ ও ২০২৩ সালে সাব-কবলা রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে তিনি সম্পত্তির বৈধ মালিকানা অর্জন করেন এবং তার নামে এসএ ও বিএস রেকর্ড রয়েছে। এছাড়া আদালতের মাধ্যমে খাজনা পরিশোধ এবং বরিশাল সিটি কর্পোরেশন থেকে বহুতল ভবন নির্মাণের ছাড়পত্রও পেয়েছেন বলে জানান তিনি।

তার অভিযোগ, অভিযুক্তরা ট্রেড লাইসেন্স ও বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ছাড়াই ঝালাই সেন্টার ও ‘এইচ আর নেভিগেশন’ নামে ব্যবসা পরিচালনা করছেন এবং অবৈধ দখল পাকাপোক্ত করতে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি, হামলা ও একাধিক মামলা দায়ের করেছেন। তবে ফরেনসিক তদন্তে এসব মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

 

গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ২৭ মার্চ বরিশালের যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতের বিচারক ইফতেখার আহমেদ অভিযুক্তদের ৪৫ দিনের মধ্যে জায়গা ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে ‘এইচ আর নেভিগেশন-গোডাউন’ ভাড়া বাবদ ২৩ লাখ ৭২ হাজার ৮০০ টাকা পরিশোধের নির্দেশনাও প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৩ অনুযায়ী এডিএম কোর্ট উচ্ছেদ নোটিশ জারি করলে বিবাদীপক্ষ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন করে, যা ২৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে নামঞ্জুর হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে বিবাদীপক্ষের বাধার মুখে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে বাদীপক্ষের লোকজনের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত ২০ জন আহত হন।

এছাড়া উচ্ছেদ কার্যক্রম বিলম্বিত করতে বিবাদীপক্ষ মহানগর দায়রা জজ আদালতে একটি ‘মিথ্যা মামলা’ দায়ের করেছে বলেও অভিযোগ করেছেন বাদীপক্ষ।

ঘটনার পর পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ বিষয়ে বিবাদী কামরুল ইসলাম ইমন জানান, অভিযোগ ভিত্তীহীন। আমরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বরিশাল সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভুমি) আজহারুল ইসলাম জানান,দুই পক্ষের মধ্যে এক পক্ষ বরিশাল মহানগর দায়রা জজ আদালতে একটি রিভিশন মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত বিষয়টি আমলে নেন। একইসাথে শুনানির তারিখ ধার্য্য করেন। যেহেতু বিজ্ঞ এডিএম কোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ মহানগর দায়রা জজ রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে শুনানির জন্য রেখেছেন সেক্ষেত্রে বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন ভূমিতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার সুযোগ নেই।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 Raytahost.Com
Design by RaytaHost