বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ০১:০৫ পূর্বাহ্ন
শিক্ষিত ও হজ পালনকারী হয়েও অন্ধ বিশ্বাসের আশ্রয় নিয়ে মেয়ের জামাই এবং জামাইয়ের মাকে ব্ল্যাক ম্যাজিক (জাদুটোনা) করে পঙ্গু ও বোবা বানিয়ে দেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে এক ইঞ্জিনিয়ার দম্পতির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে বরিশাল নগরীর পশ্চিম বগুড়া রোডের মুন্সি গ্যারেজ এলাকার সালমা প্যালেসে।
ইঞ্জিনিয়ার মো. ফারুক ও তার স্ত্রী সালমা (জোসনা)। তারা দুজনেই হজ্ব পালন করেছেন (হাজী)। তাদের মেয়ে এশা (ছদ্মনাম) পেশায় একজন চিকিৎসক এবং জামাই একটি সরকারি দপ্তরে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত।
অনুসন্ধানে জানা যায়,বিয়ের পর থেকেই মায়ের প্ররোচনায় ডাক্তার মেয়ে এশা তার স্বামীর সংসারে অশান্তি করে আসছিলেন। জামাইয়ের বাড়ির লোকজনকে কোনোভাবেই সহ্য করতে পারছিলেন না এশার মা সালমা। জামাইকে সম্পূর্ণ নিজেদের কব্জায় আনা এবং দাম্পত্য কলহ দূর করার অজুহাতে গত এপ্রিল মাসে এই ইঞ্জিনিয়ার দম্পতি এক কবিরাজের শরণাপন্ন হন।
শুরুতে কবিরাজকে তারা বলেন,মেয়ের সাথে জামাইয়ের বনিবনা হচ্ছে না, সংসারে অশান্তি লেগে থাকে। এর একটা ব্যবস্থা করে দিন। কবিরাজ মালামাল জোগাড়ের জন্য অগ্রিম টাকা দাবি করলে দম্পতি তা পরিশোধ করেন এবং কবিরাজও এক মাস ধরে তদবিরের কাজ চালান।
ঘটনার এক মাস পর মে মাসে ইঞ্জিনিয়ার দম্পতি কবিরাজের কাছে গিয়ে তাদের আসল উদ্দেশ্য প্রকাশ করেন। তারা জামাইয়ের মায়ের মোট চার কপি ছবি কবিরাজের হাতে তুলে দিয়ে বলেন,মেয়ের শাশুড়িকে ব্ল্যাক ম্যাজিক করে চিরতরে পঙ্গু এবং বোবা বানিয়ে দিতে হবে।
এহেন অমানবিক ও নৃশংস দাবি শুনে বিস্মিত হন কবিরাজ। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন,আমি ঘর-সংসারে মিল মহব্বত ফিরিয়ে আনার কাজ করি, কোনো ব্ল্যাক ম্যাজিক বা জাদুটোনা করে মানুষের ক্ষতি আমার দ্বারা সম্ভব নয়।
পরবর্তীতে গত ২৪ মে (রবিবার) কবিরাজ অগ্রিম নেওয়া সমস্ত টাকা ইঞ্জিনিয়ার দম্পতিকে ফেরত দেন এবং এ বিষয়ে আর কখনো তার কাছে না আসার অনুরোধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইঞ্জিনিয়ার দম্পতি জামাইয়ের সরকারি পদের প্রভাব খাটিয়ে কবিরাজকে দেখে নেওয়ার হুমকি ও ধমক দিয়ে চলে আসেন।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত ইঞ্জিনিয়ার ফারুক সাহেবের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে তিনি পুরো বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে সাংবাদিকের জেরার মুখে একপর্যায়ে ঘটনার আংশিক সত্যতা স্বীকার করেন। তার স্ত্রী সালমা জোসনার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনিও প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নেন।
একজন উচ্চশিক্ষিত ও সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত মানুষ হয়ে কীভাবে এই ধরনের কাজ করতে পারলেন,এমন প্রশ্নের জবাবে এই দম্পতি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি এবং গণমাধ্যমে নিউজ না করার জন্য আকুতি জানান। জামাই বা তার পরিবারের লোকজন এই বিষয়ে কিছু জানেন কি না জানতে চাইলে ইঞ্জিনিয়ার ফারুক বলেন, দয়া করে আমার জামাই বা তাদের বাড়ির লোকজনকে ফোন দিয়ে এসব বলবেন না। তাহলে আমাদেরই ক্ষতি হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,ইঞ্জিনিয়ার মো. ফারুক মোটামুটি শান্ত প্রকৃতির মানুষ হলেও তার স্ত্রী সালমা অত্যন্ত চতুর, দাম্ভিক ও উগ্র স্বভাবের। মুন্সি গ্যারেজ এলাকার আশেপাশের বাড়ির মালিকদের সাথে তো বটেই, এমনকি নিজেদের ভবনের ভাড়াটিয়াদের সাথেও তিনি অত্যন্ত রুঢ় আচরণ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাড়িওয়ালা জানান,আমরা বাধ্য না হলে ওই পরিবারের সাথে কথাই বলি না। বিশেষ করে ইঞ্জিনিয়ারের স্ত্রীর চালচলন ও কথাবার্তা সম্পূর্ণ উগ্র।
সুশীল সমাজের ধিক্কার একজন প্রকৌশলী ও একজন চিকিৎসকের বাবা-মা হয়ে কীভাবে এমন বিকারগ্রস্ত ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানসিকতার পরিচয় দিতে পারলেন, তা নিয়ে স্থানীয় সুশীল সমাজের মধ্যে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা এই দম্পতির এমন হীন কর্মকাণ্ডের তীব্র ধিক্কার জানিয়েছেন এবং তাদের এই মানসিক বিকারগ্রস্ততা থেকে বেরিয়ে এসে সুবুদ্ধির উদয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ঘটনার পরবর্তী আপডেট এবং জামাই ও কবিরাজের বিস্তারিত বক্তব্য নিয়ে আসছি চোখ রাখুন আগামী পর্বে।