বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ১২:১৯ পূর্বাহ্ন

১০ টাকা কান্ডে ছাত্রশিবির ও টোল কর্মচারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ

১০ টাকা কান্ডে ছাত্রশিবির ও টোল কর্মচারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) নিকটবর্তী দপদপিয়া সেতু টোল প্লাজায় টোলের ১০ টাকা না দেওয়া ও পরিচয় যাচাইকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবির সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ও টোলকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৫ মে) সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে উভয়পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করেছে বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সকালে একটি মোটরসাইকেলে দুই যুবক দপদপিয়া টোল প্লাজায় এসে নিজেদের বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে টোল ছাড় চান। এ সময় দায়িত্বরত টোলকর্মী সীমান্ত তাদের পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে উভয়পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরে ওই দুই যুবক স্বীকার করেন যে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন; তাদের ভাই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন।

টোলকর্মী সীমান্ত অভিযোগ করেন, পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে ওই যুবকরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করেন। পরে তিনি ঘটনার ভিডিও ধারণ শুরু করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

অন্যদিকে, মোটরসাইকেল আরোহীদের পক্ষে ঘটনাস্থলে যাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও ছাত্রশিবির রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নাসিম বিল্লাহ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার ভাইদের সঙ্গে টোলকর্মীরা ‘উদ্ধত আচরণ’ করেছেন এবং তারাই হামলার শিকার হয়েছেন। তিনি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবি জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথম দফার সংঘর্ষের পর টোলকর্মীর আত্মীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ইব্রাহিম খান তামিম ঘটনাস্থলে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে আবার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় নাসিম বিল্লাহর পক্ষের কয়েকজন এসে টোলকর্মী ও শিক্ষার্থী ইব্রাহিম খান তামিমের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে টোল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পরবর্তীতে বিষয়টি মীমাংসার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মনিরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া ইসলাম বাবু ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তবে অভিযোগ রয়েছে, তাদের উপস্থিতিতেই আবার নতুন করে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে এক পক্ষকে সরিয়ে নিয়ে সেখান থেকে চলে যান শিবির নেতারা।

আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ইব্রাহিম খান তামিম বলেন, “আমরা শিবির ভাইদের সঙ্গে বসেছি। বিষয়টি আপাতত সমাধান করা হয়েছে। তাই এখন আর কিছু বলতে চাই না।”

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ছাত্রশিবির সভাপতি মনিরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ঘটনার বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মেহেদী হাসান বলেন, “এ ধরনের ঘটনা আমাদের নজরে আসেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 Raytahost.Com
Design by RaytaHost