বুধবার, ২৪ Jun ২০২৬, ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নামজারি (মিউটেশন) নিয়ে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে নামজারি নিষ্পত্তির কথা থাকলেও, স্থানীয়দের দাবি—নির্ধারিত ফির বাইরে সর্বনিম্ন ৮ থেকে ১৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত অর্থ না দিলে আবেদন ফাইল আটকে রাখা বা নানা অজুহাতে বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মহিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দুই তহশিলদার মোহাম্মদ আসিফ নূর ও তাফিমুল ইসলামকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী দালাল সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এই চক্রে অফিসের চুক্তিভিত্তিক নৈশপ্রহরী জাকির, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মনিরুজ্জামান, অফিস সহায়ক জুবায়ের হোসেন ও মাসুদ রানাসহ বেশ কয়েকজন বহিরাগত সার্ভেয়ার ও দলিল লেখক সম্পৃক্ত রয়েছেন। সম্প্রতি ঢাকা থেকে আবেদন করা তিন সেবাগ্রহীতার আবেদন কোনো নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই ২৮ দিন পর অনলাইনে ‘না-মঞ্জুর’ দেখানোর পর স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, অতিরিক্ত টাকা না দেওয়ায় তাদের আবেদন বাতিল করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, তহশিলদার মোহাম্মদ আসিফ নূরকে নিয়মবহির্ভূত তদবিরের মাধ্যমে বরিশাল অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. আহসান হাবিবের পছন্দে মির্জাগঞ্জ থেকে মহিপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকায় বদলি করা হয়েছিল। যদিও অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. আহসান হাবিব এবং তহশিলদার আসিফ নূর উভয়ই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সার্বিক বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক জানান, দালালচক্রের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ৩টি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।