বুধবার, ২৪ Jun ২০২৬, ০১:৪৬ পূর্বাহ্ন
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর অভিযোগ, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রিপন সরদারসহ কয়েকজন মোটরসাইকেলযোগে এসে মিজানুর রহমানকে তুলে পার্শ্ববর্তী সাঁথিয়া উপজেলার করমজা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মহরম সরদারের অফিসে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর মিজানুর রহমানকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এ সময় তার হাতে থাকা প্রায় দেড় ভরি ওজনের দুটি সোনার আংটি ও নগদ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। মারধরের ফলে ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানের হাত ও পা ভেঙে গেছে। এ ছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে পাইপ দিয়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পরে তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে অভিযুক্ত রিপন সরদার, করমজা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মহরমসহ কয়েকজন তাদের পরিবারের কাছে চাঁদা দাবি করেছিলেন। সে সময় সেনাবাহিনীর সহযোগিতা নেওয়া হলে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে একটি মুচলেকা নেওয়া হয়। মুচলেকায় ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনও ঘটনার দায়ভার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর বর্তাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও সম্প্রতি আবারও চাঁদা দাবি শুরু করেন তারা।
আহত ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমাদের যৌথ পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের কাছে আলাদাভাবে চাঁদা দাবি করা হতো। এর আগে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হয়েছিল। সম্প্রতি আবার চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দেওয়ায় আমাকে তুলে নিয়ে মারধর করা হয়েছে। আমার প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা মূল্যের দুটি সোনার আংটি এবং নগদ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাঁথিয়া উপজেলা শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক রিপন সরদার বলেন, ‘ওরা আমাকে আগে মারছে, তাই আমি মারছি। ওরা এর আগে সেনাবাহিনীর কাছে আমাকে নিয়ে অভিযোগ করে, কিন্তু সেনাবাহিনী সেই অভিযোগের সত্যতা পায়নি, বরং ওদেরকে পানিশমেন্ট দেওয়া হয়েছে। এরপর ওর ভাই আমাকে বলছে, ভাই, যা হওয়ার হয়েছে, আমরা সমস্যাটা সমাধান করে ফেলি। কিন্তু ওরা এই সমস্যাটা সমাধান করেনি এবং ওরা এখনও আওয়ামী লীগ আমলের মতো ভাব নিয়ে চলে। আমার লোকজন দু—একটা বাড়ি দিয়েছে, এটা নিয়ে মিথ্যা কথা বলে লাভ নাই। আর চাঁদা ও আংটির কথাটা মিথ্যা, আমি ওই গুলো নিই নাই। আর আমি এই ধরনের রাজনীতিও করি না। মূলত ওরা আওয়ামী লীগ করে বলেই আজকে এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে।’
এ ব্যাপারে বেড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কুমার সরকার বলেন, ‘এই ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। আহত ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি সুস্থ হয়ে এলেই মামলা নথিভুক্ত করা হবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’