বুধবার, ০৮ Jul ২০২৬, ০২:১৩ পূর্বাহ্ন
বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আবারও খুলে দেওয়া হয়েছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের দুই সপ্তাহের মধ্যেই এ ঘোষণা আসে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, সোমবার (৬ জুলাই) থেকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর কার্যক্রমও শুরু হবে।
মন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ার পাশাপাশি খুব শিগগিরই মধ্যপ্রাচ্য, জাপান ও মরিশাসের শ্রমবাজার নিয়েও ইতিবাচক খবর পাওয়া যাবে। তিনি জানান, এবার কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচন করবে বাংলাদেশ। অতীতের মতো সিন্ডিকেট ও অনিয়ম যাতে তৈরি না হয়, সেজন্য সরকার স্বচ্ছ ও সমন্বিত প্রক্রিয়ায় এগোতে চায়।
এর আগে মঙ্গলবার (২৪ জুন) আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের পর দেশটির শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তিনি তখন বলেছিলেন, জুলাই মাসের মধ্যেই এ বিষয়ে সুখবর আসতে পারে। শেষ পর্যন্ত সেই প্রত্যাশাই বাস্তবে রূপ নিল।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার গত কয়েক বছরে একাধিকবার বন্ধ ও চালুর মুখ দেখেছে। অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৮ সালে বাংলাদেশি কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেশটি। পরে ২০২২ সালে আবার শ্রমিক নিয়োগ শুরু হলেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ২০২৪ সালের মার্চে মালয়েশিয়া নতুন করে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়া স্থগিত করে। এরপর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মালয়েশিয়ার সঙ্গে একাধিক বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়।
চলতি বছরের শনিবার (২১ জুন) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া যান। সফরকালে দুই দেশের মধ্যে শ্রমবাজার দ্রুত চালু করা, আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
সফর শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “আমি প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে আরও বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগ এবং একই সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার বিষয়ে অনুরোধ করেছি। অনিয়মিত শ্রমিকদের নিয়মিতকরণ এবং আটক বাংলাদেশিদের দেশে পাঠানোর বিষয়টিও তুলে ধরেছি।”
ওই বৈঠকে মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিয়োগের প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেয়। দুই দেশের আলোচনার ধারাবাহিকতায় অবশেষে বাংলাদেশের জন্য আবারও উন্মুক্ত হলো মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার।
এদিকে ২০২৪ সালে মালয়েশিয়ায় যেতে না পারা ৭ হাজার ৮৭৩ জন কর্মীকে পাঠানোর দায়িত্ব সরকারি সংস্থা বোয়েসেলকে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩ হাজার কর্মী ইতোমধ্যে মালয়েশিয়ায় যেতে পেরেছেন। বাকি কর্মীদের বিষয়েও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
বিশ্লেষকদের মতে, শ্রমবাজার পুনরায় চালু হওয়া বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সিন্ডিকেটমুক্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে আবারও সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।