মঙ্গলবার, ১৪ Jul ২০২৬, ০৯:২২ পূর্বাহ্ন
পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের জলিশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার সাড়ে ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও তা আজও শেষ হয়নি। ফলে শ্রেণিকক্ষ সংকটে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় ৮০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ভবন নির্মাণের কাজ পায় পটুয়াখালী শহরের কালিকাপুর এলাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হাসান অ্যান্ড ব্রাদার্স। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, পটুয়াখালীর তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাদিউস জামানের স্বাক্ষরিত ২০২০ সালের ৩ মার্চের কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ শুরু হলেও ভবনের ভিত্তির ওপর মাত্র ৫—৬ ফুট কলাম নির্মাণের পরই কাজ বন্ধ হয়ে যায়। প্রকল্পটির টেন্ডার আইডি ৩৭০১৫৮।
বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মার্জিয়া তাবাচ্ছুম অনন্যা বলেন, ভর্তি হওয়ার সময় নতুন ভবনের কাজ শুরু হতে দেখে খুব আনন্দ হয়েছিল। কিন্তু বিদ্যালয় জীবন শেষ হতে চললেও নতুন ভবনে একটি ক্লাসও করতে পারলাম না। ভবন না থাকায় আমাদের নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. খলিলুর রহমান বলেন, দায়িত্বে থাকাকালে তিনি একাধিকবার শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কাজ পুনরায় শুরু হয়নি।
বর্তমান প্রধান শিক্ষক গৌতম চন্দ্র হাওলাদার বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনিও বহুবার শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন; কিন্তু কোনো অগ্রগতি হয়নি। বিদ্যালয়ে বর্তমানে ২৪৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শ্রেণিকক্ষের সংকট থাকা সত্ত্বেও নির্মাণকাজের সুবিধার্থে একটি কক্ষ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সাড়ে ছয় বছর ধরে সেটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান আরও ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দেওয়া মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর পটুয়াখালীর চলতি দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুল কবির বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বারবার চিঠি দেওয়া হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বিধি অনুযায়ী পুনরায় টেন্ডারের মাধ্যমে অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।