মঙ্গলবার, ১৪ Jul ২০২৬, ০৭:৪১ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
কুয়াকাটায় জেলের জালে ধরা জোড়া ‘লায়নফিশ’

কুয়াকাটায় জেলের জালে ধরা জোড়া ‘লায়নফিশ’

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা উপকূলের গভীর বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে জেলের জালে ধরা পড়েছে এক জোড়া বিরল প্রজাতির বিষাক্ত সামুদ্রিক মাছ লায়নফিশ। রঙিন ডোরাকাটা দেহ ও কাঁটার মতো লম্বা পাখনার কারণে মাছ দুটি মহিপুর মৎস্য বন্দরে আনার পর মুহূর্তেই উৎসুক মানুষের দৃষ্টি কাড়ে।

সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে এফবি জাবের নামের একটি মাছ ধরার ট্রলারে করে মাছ দুটি মহিপুর মৎস্য বন্দরে আনা হয়। পরে সেগুলো বন্দরের মায়ের দোয়া ফিশ আড়তে তোলা হলে মাছ দুটি দেখতে ভিড় করেন স্থানীয় জেলে, ব্যবসায়ী ও কৌতূহলী মানুষ। অনেকেই ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন।

জানা গেছে, ট্রলারটির মাঝি আসাদ। তিনি জানান, দুই দিন আগে কুয়াকাটা উপকূলের গভীর বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় অন্যান্য মাছের সঙ্গে জালে উঠে আসে বিরল এই দুই লায়নফিশ। প্রথমে মাছ দুটি চিনতে না পারলেও পরে বিষয়টি নিশ্চিত হন। মাছ দুটির মোট ওজন প্রায় ৮০০ গ্রাম।

পরে স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী মো. ছগির আকন মাছ দুটি কিনে নেন। ক্রেতা ছগির জানান, মাছ দুটি দেখতে অত্যন্ত আকর্ষণীয় হওয়ায় সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। তবে এগুলো খাদ্য হিসেবে উপযোগী কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন তিনি। এর আগে মহিপুর বন্দরের মুন্নি ফিশ আড়তেও একই ধরনের একটি লায়নফিশ পাওয়া গিয়েছিল বলে জানান তিনি।

স্থানীয় জেলে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রথমে সাধারণ মাছ মনে হয়েছিল। পরে গায়ে লাল, সাদা ও বাদামি ডোরাকাটা দাগ এবং কাঁটার মতো পাখনা দেখে বুঝতে পারি এটি ভিন্ন ধরনের বিরল সামুদ্রিক মাছ।

এ বিষয়ে ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডাব্লিউসিএস (ডঈঝ) ও ওয়ার্ল্ডফিশ—এর সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, লায়নফিশ দেখতে অত্যন্ত আকর্ষণীয় হলেও এটি বিষাক্ত মাছ। এর পাখনার কাঁটায় থাকা বিষ মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে তীব্র ব্যথা, ফোলা, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতাও দেখা দিতে পারে। তাই খালি হাতে এ মাছ ধরা বা স্পর্শ করা ঝুঁকিপূর্ণ।তিনি আরও জানান, লায়নফিশ সাধারণত ভারত মহাসাগর, বঙ্গোপসাগর, প্রশান্ত মহাসাগর এবং লোহিত সাগরের উষ্ণ উপকূলীয় অঞ্চলে বিচরণ করে। এরা ছোট মাছ, চিংড়ি ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণী খেয়ে বেঁচে থাকে।কলাপাড়া উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, লায়নফিশের পাখনার কাঁটায় বিষ থাকে। অসাবধানতাবশত দংশিত হলে তীব্র ব্যথা, ফোলা এবং কখনও শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই জেলেদের এ ধরনের মাছ খালি হাতে না ধরার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 Raytahost.Com
Design by RaytaHost