শনিবার, ১৮ Jul ২০২৬, ০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন
বরিশাল জেলার কাজিরহাট থানার অন্তর্গত আন্দারমানিক ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভংগা গ্রামে ফের দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে মো. তোফাজ্জেল হোসেন হাওলাদারের বসতঘরে এ চুরির ঘটনা ঘটে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় একের পর এক চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী মো. তোফাজ্জেল হোসেন হাওলাদার জানান, গভীর রাতে চোরেরা ঘরের চালের টিন খুলে কৌশলে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা আলমারি ভেঙে প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ৪০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। চোরদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এলেও তার আগেই চোরেরা মালামাল নিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজিরহাট থানা পুলিশ নিয়মিত প্রধান সড়কে টহল দিলেও গ্রামের অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলোতে তাদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। প্রশাসনের এই উদাসীনতার সুযোগ নিয়েই সংঘবদ্ধ চোরচক্র বারবার এমন দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটানোর সাহস পাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা এখন রাতে ঘুমাতে ভয় পাই। মেইন রাস্তায় পুলিশ থাকলেও গ্রামের ভেতরের রাস্তাগুলোতে কোনো টহল নেই। পুলিশি টহল যেন শুধু লোক দেখানো, যা অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না।”
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে লতা ইউনিয়নেও একই রাতে তিনটি বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় কাজিরহাট থানায় একটি অজ্ঞাতনামা মামলা দায়ের করা হলেও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আনিস এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত কিংবা গ্রেপ্তার করতে পারেননি। ফলে চোরদের গ্রেপ্তার ও চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী পরিবার কাজিরহাট থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। এদিকে সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে কয়েকটি জোরালো দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। দাবিগুলো হলো—পুলিশি টহল শুধু প্রধান সড়কে সীমাবদ্ধ না রেখে গ্রামের অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলোতেও নিয়মিত টহলের ব্যবস্থা করা, চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারে দ্রুত পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধি এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা, সেই সঙ্গে রাতের বেলায় এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রাম পুলিশ কিংবা স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করা।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, এলাকাটিকে নিরাপদ রাখতে প্রশাসনের কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা না গেলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অঘটনের আশঙ্কা করছেন তারা।