বরিশাল নগরীর কাকাসুরা বাজার এলাকায় ডাকাতির অভিযোগের ঘটনায় তদন্তে গিয়ে প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা না পাওয়ায় তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে গেছে কাউনিয়া থানা পুলিশ। পুলিশের ধারণা, ব্যক্তিগত সম্পর্কজনিত বিরোধের জের ধরে এ অভিযোগ করা হয়ে থাকতে পারে। তবে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাবানা, সুরভী ও ফারুক নামের তিন ব্যক্তির মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আলোচনা ছিল। এ সম্পর্ককে কেন্দ্র করে সম্প্রতি তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় এক মাস আগে সুরভী তার স্বামীসহ ফারুকের বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে ওঠেন। শনিবার সকাল ৬টার দিকে শাবানা সেখানে গিয়ে ফারুককে দেখতে পান। এ সময় শাবানা ও সুরভীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।
একপর্যায়ে তাদের বাসায় ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে বলে কাউনিয়া থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। তবে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে ডাকাতির কোনো আলামত পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্যক্তিগত বিরোধ ও সম্পর্কজনিত বিষয় আড়াল করতে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে ডাকাতির অভিযোগ করা হয়ে থাকতে পারে। যদিও এ বিষয়ে পুলিশের চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন এখনও প্রকাশিত হয়নি।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সনজিত চন্দ্র নাথ বলেন, “সকালে কাকাসুরা বাজারে ডাকাতি হয়েছে বলে আমাদেরকে জানানো হয়। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পাই, ডাকাতির কোনো ঘটনা ঘটেনি। প্রকৃত ঘটনা জানার জন্য ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে এসেছি। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।”
পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করা দণ্ডনীয় অপরাধ। তদন্তে যদি অভিযোগটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।