
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ধাওয়া ও ইকড়ি ইউনিয়নের ভিতর দিয়ে বয়ে যাওয়া বায়নের খালটি কচুরিপানায় ভরাট হয়ে মরাখালে পরিনত হয়েছে। এ খালের ওপর দুই ইউনিয়নের অন্ত ৪০ হাজার পরিবার নিত্য ব্যবহার্য পানি ও এলাকার কৃষির সেচ সংকট মোকাবেলা করে আসছে। বর্তমানে খালটি নব্যতা হারিয়ে উল্লেখিত দুই ইউনিয়ন বাসিকে চরম পানি সংকটে ফেলে দিয়েছে।
স্থানীয়দের সূত্রে জানাগেছে, ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ধাওয়া ও ইকড়ি ইউনিয়নের ভিতরে প্রবহমান খালটি বায়নের খাল নামে পরিচিত। দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে কচুরিপানায় ভরে যাওয়ায় পানি প্রবাহ মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জন গুরুত্বপূর্ণ খালটি সংস্কার কিংবা খননের অভাবে খালের পানি ব্যবহার অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। এতে এলাকাজুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র পানি সংকট। এর প্রভাব পড়ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও জনস্বাস্থ্যের ওপর।
ভূক্তভোগিরা জানান, খাল সংশ্লিষ্ট দুই ইউনিয়নের অন্তত ৪০ হাজার পরিবারের দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় পনি ব্যাবহারের একমাত্র উপায় হচ্ছে এই খাল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে খালটি পরিষ্কার না করায় কচুরিপানা পুরো খালজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে পানির প্রবাহ স্থবির হয়ে পড়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে । ফলে খালের পানি সম্পূর্ণ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ খালের পানি কৃষিকাজ ও গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার হয়ে আসছে। কিন্তু বর্তমানে খালের পানি নষ্ট হওয়ায় তা ব্যবহার সম্ভব হচ্ছে না।
ইকড়ি ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মো. নাসির উদ্দিন মল্লিক বলেন, কচুরিপানার কারনে খালের পানি এখন এতটাই নষ্ট হয়ে গেছে যে, ব্যবহার তো দূরের কথা পানিতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। কয়েক হাজার পরিবার এখন পানির কারণে হুমকির মুখে পড়েছেন। দূষিত পানির কারণে ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। খালটি পরিষ্কার করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এছাড়া স্থানীয় চিকিৎসকদের মতে, দূষিত পানির কারণে ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ হাসিবুল হাসান জানান,খালটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি।অতি শিগগিরই সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দূর করার লক্ষ্যে কচুরিপানা অপসারণ করে পনির গতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয়া হবে।
স্থানীয়দের আশা,দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে খালের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হবে এবং তাদের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব পাবে।
Leave a Reply