
বরিশালের হিজলা উপজেলার ৫ নম্বর হিজলা গৌরবদী ইউনিয়নের চরকুশুরিয়া গ্রামের নবম শ্রেণির ছাত্রী উম্মে হাবিবার এসএসসি রেজিস্ট্রেশন না হওয়ায় তার শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
উম্মে হাবিবা উপজেলার আব্দুস ছাত্তার তালুকদার মেমোরিয়াল নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। তার ক্লাস রোল নম্বর ১৫।
হাবিবার দাবি, তিনি ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে পড়াশোনা করে আসছেন। তার বাবা একজন দিনমজুর হলেও কষ্ট করে বিদ্যালয়ের বেতন, পরীক্ষার ফি এবং রেজিস্ট্রেশন ফি নিয়মিত পরিশোধ করেছেন। নবম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রয়োজনীয় ছবি ও ফিও যথাসময়ে জমা দিয়েছেন।
হাবিবার অভিযোগ, গত ২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাকে ডেকে জানান যে তার রেজিস্ট্রেশন হয়নি। এ সময় প্রধান শিক্ষক তাকে বাবা-মাকে উপযুক্ত পাত্র দেখে বিয়ে দিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন হাবিবা। তিনি বলেন, “আমার স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া শেষ করে বড় কিছু হবো। কিন্তু রেজিস্ট্রেশন না হওয়ায় আমার সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে। আমি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই এবং দেশের জন্য কিছু করতে চাই।”
হাবিবার পরিবার জানায়, বিষয়টি জানতে তারা প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি নাকি বলেন, ৫ হাজার টাকা খরচ করতে পারলে বিষয়টি সমাধান করা যেতে পারে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা বলেন, হাবিবা সময়মতো স্কুলে আসেনি, তাই তার রেজিস্ট্রেশন হয়নি।
এ বিষয়ে হাবিবার বক্তব্য, তিনি যদি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকতেন, তাহলে কীভাবে রেজিস্ট্রেশন ফি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ছবি জমা দিলেন এবং নিয়মিত ক্লাস করলেন।
এদিকে বিদ্যালয়ের ক্লার্ক মো. আলীর কাছে রেজিস্ট্রেশন না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “১০০টা কাজ করলে একটা ভুল হতেই পারে।”
হাবিবার পরিবারের অভিযোগ, এখন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রেজিস্ট্রেশন ফি ফেরত দিতে চাইলেও তারা টাকা নয়, মেয়ের শিক্ষাজীবন রক্ষার দাবি জানাচ্ছেন।
তারা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, “আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। একটি প্রশাসনিক ভুল বা অবহেলার কারণে যেন একটি মেধাবী শিক্ষার্থীর জীবন ও স্বপ্ন নষ্ট না হয়।”
উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।