
বরিশাল সিনিয়র জজ আদালতের একটি দেওয়ানি মামলার সার্চিং কপিতে মামলার কার্যক্রম স্থগিত সংক্রান্ত তথ্য উল্লেখ না থাকার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আদালতের নথির সঙ্গে দাখিল করা সার্চিং কপির তথ্যের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট নথি সূত্রে জানা যায়, ২৪৯/২০১৫ নম্বর মোকদ্দমায় বাদীপক্ষ ২০১৭ সালে একটি একতরফা রায় ও ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে ওই একতরফা রায় ও ডিগ্রির বিরুদ্ধে মামলার ১ নম্বর বিবাদী রবীন্দ্রনাথ হাওলাদার গত ২৯ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখে ১১/২০১৭ নম্বর ছানি মোকদ্দমা দায়ের করেন।
নথি পর্যালোচনায় আরও জানা যায়, ২৪৯/২০১৫ নম্বর মোকদ্দমার একতরফা রায় ও ডিগ্রির কার্যক্রম ২৫ জানুয়ারি ২০১৭ থেকে ১১/২০১৭ নম্বর ছানি মোকদ্দমার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকার বিষয়টি নথিতে রয়েছে বলে অভিযোগকারী পক্ষ দাবি করছে। তবে ১১/২০১৭ নম্বর ছানি মোকদ্দমাটি বর্তমানে চলমান রয়েছে।
এদিকে, বিপুল চন্দ্র বেপারী ১১ মার্চ ২০২৬ তারিখে ১৫৬/২০২৫ নম্বর মোকদ্দমায় একটি সার্চিং কপি ফিরিস্তিযুক্ত করে দাখিল করেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। অভিযোগ উঠেছে, ওই সার্চিং কপিতে ২৫ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখে রায় এবং ২৯ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে ডিগ্রি হওয়ার কথা উল্লেখ করা হলেও কার্যক্রম স্থগিত থাকার বিষয়ে কোনো আদেশের তথ্য দেওয়া হয়নি।
অভিযোগকারীদের দাবি, সার্চিং কপির ৩ নম্বর কলামে কার্যক্রম স্থগিত সংক্রান্ত কোনো আদেশ প্রদান করা হয়নি—এমন তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ মূল নথি পর্যালোচনা করলে কার্যক্রম স্থগিতের বিষয়টি স্পষ্টভাবে পাওয়া যায় বলে তারা দাবি করছেন। ফলে সার্চিং কপিতে ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য গোপন বা বিকৃত করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, একতরফা রায় ও ডিগ্রি সংক্রান্ত কার্যক্রম স্থগিত থাকার বিষয়টি বাদ দিয়ে সার্চিং কপি প্রস্তুত ও পরবর্তীতে আদালতে দাখিল করা হয়ে থাকলে, সেটি আদালতের নথি উপস্থাপনের ক্ষেত্রে গুরুতর অনিয়মের শামিল হতে পারে। তবে সার্চিং কপি প্রস্তুত বা দাখিলের সঙ্গে জড়িতদের বক্তব্য এবং প্রকৃত নথি যাচাই ছাড়া বিষয়টিকে চূড়ান্তভাবে জালিয়াতি হিসেবে অভিহিত করা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতের নথি, সার্চিং কপির সত্যতা এবং তা প্রস্তুতের প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী মুহুরী রবীন্দ্রনাথ হাওলাদার।