
পূর্বশত্রুতার জেরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার ১২ দিন পর বিদ্যুৎ ফিরে পেয়েছে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ার সাতটি অসহায় পরিবার।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিবুল হাসানের দ্রুত হস্তক্ষেপে রাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পর সংযোগগুলো পুনঃস্থাপন করা হয়।
এ ঘটনায় বিদ্যুৎ আইন, ২০১৮-এর ৩৯/২ ধারায় প্রধান অভিযুক্ত ফজলুল হক সেপাইকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২৭ আগস্ট সন্ধ্যায় উপজেলার নদমূলা গ্রামে পূর্বশত্রুতার জেরে ফজলুল হক সেপাই (৬২), তার ছেলে লিয়াকত হোসেন সেপাই ও সহযোগী জলিল হাওলাদার একই গ্রামের সাতটি পরিবারের বসতঘরের বিদ্যুৎ মিটারের সংযোগের তার কেটে দেন।
বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সময় বাধা দিতে গেলে ভুক্তভোগীদের খুন-জখমের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা। এতে জাকির সেপাই, আয়শা বেগম, শামীম সেপাই, সৈয়দ সেলিম, ইউনুচ সেপাই, আবদুস ছালাম সেপাই ও শহিদুজ্জামানের পরিবার ১২ দিন বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় ছিল।
পরে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষে কুলসুম বেগম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সোমবার রাতে ঘটনাস্থলে যান ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিবুল হাসান।
সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে প্রধান অভিযুক্ত ফজলুল হক সেপাইকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশের পর ওই রাতেই বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া সাতটি পরিবারের বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হয়। দীর্ঘ ১২ দিন পর ঘরে বিদ্যুৎ ফিরে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হয়েছে। একই সঙ্গে বেআইনিভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তারা।