
বরিশালের মুলাদী উপজেলায় কলেজে যাওয়ার পথে এক ছাত্রীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তুলে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক বিয়ের নাটক সাজানোর অভিযোগ উঠেছে এক যুবক ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, মুলাদী সদর ইউনিয়নের নন্দীর বাজার এলাকার ওপার থেকে ট্রলারে করে নিয়মিত মুলাদী সরকারি কলেজে যাতায়াত করতেন ওই ছাত্রী। এ সময় হাসেম ব্যাপারীর ছেলে কামাল ব্যাপারী ও তার সহযোগী মিরাজ প্রায়ই তাকে উত্ত্যক্ত করতেন।
অভিযোগে বলা হয়, একদিন সুযোগ পেয়ে কামাল ব্যাপারী কয়েকজন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে ওই ছাত্রীকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে হিজলা উপজেলার পত্তনীভাঙ্গা গ্রামের ১ নম্বর ওয়ার্ডে কবিরাজ ব্যাপারীর বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে কামাল, কবিরাজসহ ১০ থেকে ১৫ জনের উপস্থিতিতে রাতে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে মেয়েটিকে জানানো হয়।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বাড়িতে ফিরে যেতে চাইলে কামাল তাকে হুমকি দিয়ে বলেন, তার কথামতো চলতে হবে, অন্যথায় পরিণতি ভালো হবে না। এমনকি একপর্যায়ে তাকে অন্য একজনের কাছে রাত কাটানোরও প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে কান্নাকাটি করে কোনোভাবে পরিবারের কাছে ফিরে এসে পুরো ঘটনা জানান ওই ছাত্রী। পরিবারের দাবি, বিষয়টি প্রশাসন বা অন্য কাউকে জানালে পরিবারের সবাইকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এ কারণে তারা প্রথমদিকে আতঙ্কের মধ্যে বিষয়টি প্রকাশ করতে পারেননি।
পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা গোপনে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, প্রকৃতপক্ষে কোনো বৈধ বিয়ে সম্পন্ন হয়নি এবং বিয়ের ঘটনাটি সাজানো হয়েছিল বলে তাদের অভিযোগ।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে উক্ত বিষয়ে মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান আমদের কাছে কোন অভিযোগ করেনি।কেউ লিখিত অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।