, , ,
শিরোনাম
বিদেশ পাঠানোর নামে প্রতারণা, শিক্ষকসহ দুজনের বিরুদ্ধে মামলা

বিদেশ পাঠানোর নামে প্রতারণা, শিক্ষকসহ দুজনের বিরুদ্ধে মামলা

Reporter
প্রতিবেদক : এস এম শাহা-আলম
প্রকাশিত : সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বরিশালের মুলাদী উপজেলার কাজিরহাটে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে ছয় লাখ টাকা নেওয়া এবং পরে পর্যটন ভিসায় কম্বোডিয়ায় পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে সাতগাঁ আজিজিয়া দাখিল মাদ্রাসার এবতেদায়ি জুনিয়র শিক্ষক মো. শাহ আলমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শাহ আলম ও তার ছেলে রাকিবের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগীর বাবা আমির হাওলাদার।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর আমির হাওলাদারের ছেলে জসিম হাওলাদারকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে মাদ্রাসার একটি কক্ষে বসে তার কাছ থেকে ছয় লাখ টাকা নেন শিক্ষক মো. শাহ আলম। পরবর্তীতে প্রায় এক মাস পর জসিমকে পর্যটন (ট্যুরিস্ট) ভিসায় কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়।

অভিযোগ রয়েছে, কম্বোডিয়ায় গিয়ে জসিম কোনো কাজ বা প্রত্যাশিত সুযোগ না পেয়ে প্রায় দুই মাস চরম কষ্টে জীবনযাপন করেন। পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে পড়লে তার বাবা আমির হাওলাদার বিভিন্ন মাধ্যমে টাকা পাঠিয়ে ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনেন।

দেশে ফেরার পর বিদেশ পাঠানোর নামে নেওয়া টাকা ফেরত চেয়ে শাহ আলমের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেন আমির হাওলাদার। এ সময় শাহ আলম টাকা ফেরত দেওয়ার কথা স্বীকার করলেও পরবর্তীতে দীর্ঘদিন ধরে নানা টালবাহানা ও প্রতারণা করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীর পরিবার।

এরপর গত সপ্তাহে আমির হাওলাদার আদালতে মো. শাহ আলম ও তার ছেলে রাকিবের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। আদালতের বিচারক মামলাটি কাজিরহাট থানার অফিসার ইনচার্জকে এজাহার হিসেবে রেকর্ড করার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশ অনুযায়ী ১৪ সেপ্টেম্বর মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে সাতগাঁ আজিজিয়া দাখিল মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষক মো. শাহ আলমকে পাওয়া যায়নি। মাদ্রাসার সুপার মাওলানা রুহুল আমিন জানান, শাহ আলম প্রায় এক সপ্তাহ ধরে মাদ্রাসায় অনুপস্থিত রয়েছেন। তাকে মাদ্রাসায় উপস্থিত হতে বলা হলে অসুস্থতার কথা জানিয়ে এখনো কর্মস্থলে ফেরেননি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে ভুক্তভোগী জসিম হাওলাদারের বাবা আমির হাওলাদার কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমার কাছ থেকে শাহ আলম মাস্টার ছয় লাখ টাকা নিয়ে আমার ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলেছিলেন। পরে ট্যুরিস্ট ভিসায় কম্বোডিয়ায় পাঠান। সেখানে আমার ছেলে দুই মাস অনেক কষ্ট করেছে। পরে টাকা পাঠিয়ে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হয়েছে। আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি। আমি সঠিক বিচার চাই এবং আমার টাকা ফেরত পেতে চাই।”

তবে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. শাহ আলম ও তার ছেলে রাকিবের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।

মামলার তদন্ত ও আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা এবং দায়-দায়িত্ব নির্ধারিত হবে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 Raytahost.Com
Design by RaytaHost