
বরিশালের বাবুগঞ্জে দ্রুতগতির বাসের ধাক্কায় রাকুদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী মৌলভি (ক্বারি) রেহানা বেগম (৪৫) নিহত হয়েছেন। তিনি একই মাদ্রাসার সুপার মাওলানা নাসিরউদ্দিনের স্ত্রী।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকা—বরিশাল মহাসড়কের দ্বারিকা—শিকারপুর ব্রিজের ঢালের পশ্চিম রাকুদিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার প্রতিবাদে এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা প্রায় এক ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় ও মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে রেহানা বেগম শিকারপুর ব্রিজের ঢাল এলাকায় ঢাকা—বরিশাল মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন। এ সময় ঢাকা থেকে বরিশালগামী লাবিবা কোম্পানির ‘আহনাফ পরিবহন’ নামের একটি বাস দ্রুতগতিতে এসে তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ছিটকে সড়কের পাশে পড়ে যান। দুর্ঘটনায় মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান তিনি। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রাকুদিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে আহত রেহানা বেগমকে উদ্ধার করে বরিশাল শের—ই—বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।
অবরোধের কারণে ঢাকা—বরিশাল মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে ওই সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও সাধারণ মানুষ।
খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও বাবুগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পুলিশ লাবিবা কোম্পানির কয়েকটি বাস আটক করলে শিক্ষার্থীরা প্রায় এক ঘণ্টা পর অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়। পরে মহাসড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।
বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ওই নারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। দুর্ঘটনার ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’