
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় পারিবারিক কলহ ও স্বর্ণালংকার বিক্রির বিরোধে স্বামী—স্ত্রী উভয়ে বিষপান করেন। এতে স্ত্রী নুরুন্নাহার বেগমের (৩৭) মৃত্যু হলেও আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্বামী রফিকুল ইসলামকে (৪৫) বরিশাল শের—ই—বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার বড় মাছুয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ বড় মাছুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে দক্ষিণ বড় মাছুয়া গ্রামের আব্দুল হকের মেয়ে নুরুন্নাহারের সঙ্গে একই গ্রামের রফিকুল ইসলামের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী—স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ লেগে থাকত এবং প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি ও মারামারির ঘটনা ঘটত। তবে দাম্পত্য জীবনে তাদের দুটি পুত্রসন্তান থাকায় উভয় পরিবার ও স্থানীয় লোকজন বিভিন্ন সময় তাদের মধ্যকার বিরোধ মীমাংসা করে দিতেন।
গত দুদিন আগে তাদের পুনরায় ঝগড়াঝাঁটি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার তাদের মধ্যে স্বর্ণের কানের দুল ও হাতের আংটি বিক্রি করা নিয়ে পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উভয়ে কীটনাশক পান করেন।
পরে স্থানীয় লোকজন তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে সন্ধ্যার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুরুন্নাহার মারা যান। পরবর্তীতে নুরুন্নাহারের স্বামী রফিকুল ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নুরুন্নাহারের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মঙ্গলবার সকালে লাশ পিরোজপুর জেলা মর্গে প্রেরণ করা হবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।