
বরগুনার বামনা বাজারের ব্যাগে ফেলে যাওয়া সেইউদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত নবজাতক শিশু কন্যা নিষ্পাপ শিশুটির পরিচয় মিললেও মেলেনি পরিবার কিংবা পরম মমতার আশ্রয় ।
গত ২৪ আগস্ট বরগুনার বামনা সদরের সোনাখালি ফায়ার সার্ভিস এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত সেই শিশুটি কি তার পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।
গত ২৬/০৮/২০২৬ সকাল ১০ ঘটিকায় বামনা থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ ফারুক হোসেন খান এবং সমাজ সেবা কর্মকর্তার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে উদ্ধার হওয়া নবজাতক শিশু কন্যাকে বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে “ছোট মনি” নিবাস আগৈলঝড়া বরিশাল এর উদ্দেশ্যে বিদায় দেয়া হয়। এর পড়ে ই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে গত ২৭/০৮/২০২৬ইং বুধবার ঢাকায় প্রেরন করা হয়েছিল। শুরু থেকই এই নবজাতকের মাতৃ পিতৃ পরিচয় নিয়ে এলাকায় চলছে নানান গুঞ্জন। আল্লাহ এই জল্পনা—কল্পনার অবসান ঘটিয় মাতৃ পরিচয় স্বীকার করলেও তবে পিতৃত্বের পরিচয় অস্বীকার করে অভিযুক্ত জাকির হাওলাদার।
সরেজমিনে এসে এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, শিশুটির মা বামনার পূর্ব শফিপুর গ্রামের ইউনুস খানের ছেলে মাসুম খান এক ওমান প্রবাসীর স্ত্রী শাহিনুর বেগম। শিশুটির মায়ের দাবি, একই গ্রামের প্রতিবেশী সদর ইউনিয়নের চাড়াখালী গ্রামের কাঞ্চন হাওলাদারের ছেলে জাকির হাওলাদারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া সম্পর্কের পরিণতি এই নবজাতক শিশু সন্তান।
প্রবাসীর স্ত্রী শাহিনুর বেগম এর আকুল আকুতি জানিয়ে বলেন, এই সন্তানের পিতাকে তা কেবল মা বলতে পারেন, এই নবজাতক শিশু পিতা আর কেউ নয় প্রতিবেশী জাকির হাওলাদার । তবে নিজের নাম গোপন রাখতে এবং লোকচক্ষুর অন্তরালে ঘটে যাওয়া এই সম্পর্কের দায় এড়াতেই সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরপরই তাকে নির্জন এলাকায় ফেলে আসা হয়েছিলো।
এদিকে সম্পর্কের সব স্মৃতি ও অভিযোগ এক
ঝটকায় অস্বীকার করছেন অভিযুক্ত জাকির।এলাকা বাসির অভিযোগ এই জাকির এলাকার সহজ সরল মানুষকে লোভ দেখিয়ে তাদের সাথে শারিরীক সম্পর্ক গড়ে তুলত তাদের মধ্যে একজন সহজ সরল বাড়ীর পাশে রুস্তুমের স্ত্রী তার নামে নিজ টাকায় জমিরেখে দিলে কয়েক দিন পূর্বে তাকে নিয়ে পালিয়ে যায় এই জাকির। লোকলজ্জা ও সামাজিক বিচারের ভয়ে তিনি শিশুটিকে নিজের রক্ত হিসেবে মেনে নিতে নারাজ। তার দাবি, এই সন্তানের দায় তার নয়।
মেয়ের বাবা শহীদ বলেন, একদিকে প্রবাসীর অনুপস্থিতিতে এক নারীর ভুল পথচলা, অন্যদিকে প্রতিবেশীর প্রতারণা ও অস্বীকৃতি—এই দুইয়ের টানাপোড়নে সবচেয়ে বড় বলির পাঠা হয়েছে শাহিনুর। নবজাতক ১ দিন বয়সী নিষ্পাপ শিশুটি। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শিশুটির নানা নানী ও স্থানীয়দের দাবি, সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পাপ শিশুটির প্রকৃত পিতৃ পরিচয় নিশ্চিত করা হোক।
এ বিষয়ে বামনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ফারুক হোসেন খান বলেন, রাস্তায় পরে পাওয়া শিশুটির সত্য পরিচয় নির্ধারণ ও মূল ঘটনা উদঘাটনে ইতিমধ্য পুলিশ কাজ করছে। বাকি তথ্য আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। তবে আইনি প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনে ডিএনএ টেস্টের (উঘঅ ঞবংঃ) এর মাধ্যমে পিতৃত্বের আসল সত্য পরিচয় উন্মোচিত করা হবে।