
পটুয়াখালীর বাউফলে প্রায় ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি কার্পেটিং সড়কে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই সড়কটির অন্তত দুই অংশে দেবে গিয়ে কার্পেটিং উঠে গেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।
বুধবার (২৩ নভেম্বর) সরেজমিনে মদনপুরা ইউনিয়নের মধ্যম মদনপুরা এলাকায় গিয়ে সড়কটির পাইলিংয়ের দুই অংশে দেবে যাওয়া এবং কার্পেটিং উঠে যাওয়ার চিত্র দেখা যায়।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় ২০২৫—২৬ অর্থবছরের গ্রামীণ সড়ক পুনর্বাসন (ভিআরআর) প্রকল্পের অধীনে সড়কটি নির্মাণ করা হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় ৩১ লাখ ৯২ হাজার ১৯২ টাকা।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, মধ্য মদনপুরা বাজারের উত্তর পাশে প্রধান সড়কের কবরস্থান থেকে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফার বাড়ির কাছে একটি ব্রিজ পর্যন্ত সড়কটির দৈর্ঘ্য ৭৭০ মিটার এবং প্রস্থ ২ দশমিক ৪৪ মিটার। চলতি বছরের ১৫ মার্চ সড়কটির নির্মাণকাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কাজ শেষ হয় ১৩ জুলাই।
সড়কটির নির্মাণকাজ করে পটুয়াখালীর ‘কুয়াকাটা এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
তবে নির্মাণের কয়েক মাসের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন অংশে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সড়কের কার্পেটিং ওঠানোর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কুয়াকাটা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সাইদুর রহমান বলেন, ‘কার্পেটিং সড়কের নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম হয়নি। বিরামহীন বর্ষণের কারণে হয়তো দু—এক জায়গায় সামান্য ত্রুটি হতে পারে।’
সড়কটির তদারকি কর্মকর্তা (এসও) ফয়সাল ফরাজী অবশ্য নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ নাকচ করেছেন। তিনি বলেন, ‘যে ফেসবুক পেজে সড়কের কার্পেটিং তোলার ভিডিও আপলোড করা হয়েছে, সেটি ভিউ বাড়ানোর জন্য করা হয়েছে। ভিডিওতে হাত দিয়ে কার্পেটিং তোলার সময় সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছিল। একটি কার্পেটিং সড়ক নির্মাণের পর সেটি মজবুত হতে অন্তত ৭২ ঘণ্টা সময় লাগে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভিডিওটি প্রচারের পর আমি সড়কটি পরিদর্শন করেছি। কোথাও কোনো অনিয়ম চোখে পড়েনি। এরপরও বর্ষার কারণে সড়কের কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে তা মেরামত করে দেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী এমামুল হক আলিম (অতিরিক্ত দায়িত্ব) বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোঁজখবর নিয়ে দেখা হবে। কোথাও অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’