
বরিশাল সদর ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী কালাবদর ও তেঁতুলিয়া নদীতে রাতের আঁধারে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের তালতলী খালের মুখ থেকে শুরু করে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী কালাবদর ও তেঁতুলিয়া নদীর বিভিন্ন এলাকায় রাতের বেলায় একের পর এক ড্রেজার ও বলগেট বসানো হয়। সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয়ে ভোর পর্যন্ত চলে বালু উত্তোলন ও পরিবহনের কার্যক্রম।
স্থানীয় সবুজ মাঝি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে তালতলী খালের মুখ থেকে ভাষানচর ইউনিয়নের সীমান্ত পর্যন্ত নদীতে রাতের আঁধারে বিপুলসংখ্যক বলগেট বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। রাত ৮টার পর থেকে ভোর পর্যন্ত চলে এই কার্যক্রম।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীভাঙনে যখন অনেক মানুষ ঘরবাড়ি ও জমিজমা হারিয়ে দিশেহারা, তখন ভাঙনকবলিত এলাকা থেকেই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীভাঙন আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
তাদের দাবি, বালু উত্তোলনের কারণে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ও তলদেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভাঙনপ্রবণ এলাকায় নতুন করে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিষয়টি বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত অভিযান ও কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
এদিকে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বরিশাল জেলা প্রশাসকের সরকারি নম্বর এবং মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রশাসনের নজরদারি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে রাতের পর রাত নদীতে ড্রেজার ও শত শত বলগেট চালিয়ে বালু উত্তোলন চলছে। তারা অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে দ্রুত অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।