
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছেন প্রবাসী আলহাজ মোজাম্মেল হোসাইন খান (মজনু)।
তিনি দীর্ঘদিন প্রবাসে অবস্থান করলেও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, সামাজিক ও ধর্মীয় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা এবং জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে অংশগ্রহণের কারণে তাঁর সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
মোজাম্মেল হোসাইন খান (মজনু) মির্জাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক। পাশাপাশি তিনি প্রবাসী মির্জাগঞ্জ উপজেলা অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক। তিনি মকুমা ফাতিমাতুজ জোহরা জামে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতাও।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রবাসে থাকলেও মজনু খান এলাকার সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, ধর্মীয় আয়োজন ও জনসম্পৃক্ত কার্যক্রমে তাঁর অংশগ্রহণ রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। বিশেষ করে শিক্ষা ও যোগাযোগ অবকাঠামোসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর সহযোগিতার বিষয়টিও স্থানীয়ভাবে আলোচনায় রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন সময় তিনি এলাকার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজে সহযোগিতা করেছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমেও তাঁর সহযোগিতা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
এ ছাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তাঘাট মেরামত ও সংস্কারের কাজে তিনি সহযোগিতা করেছেন বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান।
স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার চেষ্টা করেন বলেও কয়েকজন বাসিন্দা উল্লেখ করেন।
মকুমা ফাতিমাতুজ জোহরা জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততাকেও স্থানীয়রা তাঁর সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হিসেবে দেখছেন। মসজিদ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ধর্মীয় ও সামাজিক বিভিন্ন আয়োজনে তাঁর সহযোগিতা রয়েছে বলে তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা জানান।
এ ছাড়া প্রবাসী মির্জাগঞ্জ উপজেলা অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে প্রবাসী মির্জাগঞ্জবাসীর বিভিন্ন বিষয়েও তিনি সম্পৃক্ত রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। প্রবাসে অবস্থানরত মির্জাগঞ্জের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও এলাকার সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখার ক্ষেত্রেও সংগঠনটির কার্যক্রমে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।
তাঁর অনুসারীদের দাবি, প্রবাসজীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও মজনু খান এলাকার মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা, সামাজিক অনুষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাটের সমস্যা এবং ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তিনি খোঁজখবর নেন।
এরই মধ্যে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে চেয়ারম্যান পদে মোজাম্মেল হোসাইন খান (মজনু) নির্বাচন করতে পারেন, এমন আলোচনা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় চলছে।
মোজাম্মেল হোসাইন খান (মজনু) বলেন, ‘মানুষের পাশে থেকে সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কাজ করার চেষ্টা করছি। প্রবাসে থাকলেও এলাকার মানুষের সঙ্গে আমার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতা পেলে তাঁদের কল্যাণে কাজ করতে চাই। এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করাই আমার লক্ষ্য।’
নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় মানুষের মতামত ও সহযোগিতাকে আমি গুরুত্ব দিচ্ছি। মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করার সুযোগ পেলে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করব। এ জন্য কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের দোয়া, সহযোগিতা ও সমর্থন প্রত্যাশা করছি।’
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, মজনু খানের সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকায় তাঁর পরিচিতি রয়েছে। বিশেষ করে প্রবাসে থেকেও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহযোগিতা, রাস্তাঘাট মেরামত ও সামাজিক উদ্যোগে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি তাঁরা উল্লেখ করেন।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে একজন সম্ভাব্য প্রার্থীর সামাজিক সম্পৃক্ততা, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, সাংগঠনিক ভূমিকা এবং এলাকার উন্নয়ন নিয়ে তাঁর পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। মজনু খানের ক্ষেত্রেও এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে আলোচনা হচ্ছে।
অন্যদিকে, নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত কারা প্রার্থী হবেন, তা এখনো চূড়ান্ত নয়। নির্বাচন কমিশনের তফসিল, মনোনয়ন প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ও স্থানীয় সিদ্ধান্তের পর প্রার্থিতার চিত্র স্পষ্ট হবে।
কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের ভোটারদের মধ্যে নির্বাচন ঘিরে আগ্রহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সামাজিক কর্মকাণ্ড ও স্থানীয় সম্পৃক্ততাও আলোচনায় আসছে। শেষ পর্যন্ত ভোটাররা প্রার্থীদের ব্যক্তিগত পরিচিতি, সামাজিক ভূমিকা, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও স্থানীয় সমস্যার বিষয়ে তাঁদের অবস্থান বিবেচনা করবেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
তবে প্রার্থীর সামাজিক ভূমিকা, যোগাযোগের গ্রহণযোগ্যতা ও উন্নয়নমূলক কাজের অতীত রেকর্ডের বিচারে ভোটারদের আলোচনায় মজনু খান শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।