
বিয়ের দাবিতে নীলফামারীর সৈয়দপুরে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন এক নার্স। দুই বছর ধরে প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে তিনি এ অবস্থান নেন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে তার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান।
ওই নার্স দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নার্স হিসেবে কর্মরত।
তার অভিযোগ, দিনাজপুরে একই কলেজে পড়াশোনার সুবাদে সৈয়দপুর উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের লক্ষণপুর চরকপাড়া এলাকার বাসিন্দা জাকারিয়া সরকার জনির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
জাকারিয়া সরকার জনি উত্তরা ইপিজেডের একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। ওই নারীর দাবি, দুই বছর ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ সময় বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জাকারিয়া তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। তবে বর্তমানে জাকারিয়া বিয়েতে রাজি হচ্ছেন না।
ওই নারী বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে অন্যত্র তার বিয়ের আয়োজন করা হলে জাকারিয়া আত্মহত্যার হুমকি দেন। তার কথায় বিশ্বাস করে তিনি ওই বিয়েতে রাজি হননি। এ কারণে পরিবারের সঙ্গেও তার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এখন জাকারিয়া বিয়ের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করায় বাধ্য হয়ে তার বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন।
এ পরিস্থিতিতে রোববার (২৫ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে জাকারিয়ার বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন তিনি। তার আসার খবর পেয়ে জাকারিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে তালা দিয়ে চলে যান বলে জানা গেছে। এরপর সোমবার দুপুর পর্যন্ত তিনি ওই বাড়িতে অবস্থান করেন। পরে বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আনিসুল ইসলাম তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান।
আনিসুল ইসলাম বলেন, মেয়েটি দুই দিন ধরে বাড়িতে অবস্থান করছে। তার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাকে আমার বাড়িতে নিজের হেফাজতে রেখেছি। ছেলের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে জাকারিয়া সরকার জনি ও তার বাবা সেকেন্দার সরকারের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সাড়া পাওয়া যায়নি।
সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, এ বিষয়ে ওই নারী এখনো থানায় কোনো অভিযোগ দেননি। বিষয়টি আমি শুনেছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।