
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চর কাজল ইউনিয়নের বড় চর কাজল গ্রামে গাড়ি ও বসতঘর থেকে ব্যাটারি চুরির ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের সালিসের মাধ্যমে মারধর করে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো: মনিরুল ইসলাম মনিরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চোর সন্দেহে আটক ব্যক্তিসহ তিনজনকে মারধরের অভিযোগও পাওয়া গেছে।তার ভিতর মলিন্দ্র ধুপির ছেলে মিলন ধুপি নামে এক নিরাপরাধ যুবককে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে।মারধর করে পরিবারের জিম্মায় দিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ব্যাটারি চুরির ঘটনায় নবীন ও আসিফ নামে দুজনকে স্থানীয় জনতা আটক করে। পরে চুরি হওয়া ব্যাটারি উদ্ধার করে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো: মনিরুল ইসলাম মনিরের কাছে হস্তান্তর করা হলে তিনি আইনের হাতে তুলে নাদিয়ে নিজে সালিসের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করেন এবং আটক ব্যক্তিদের মারধর করে ছেড়ে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, একই এলাকার ইয়াসিন ঘরামির ছেলে আলিফ (২১) চুরির ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হলেও তাকে আইনের আওতায় না এনে আড়ালে রাখা হয়েছে।
এ ঘটনায় মারধরের শিকার হয়েছেন একই এলাকার কালু গাজীর ছেলে নবীন (১৭), মিজান সরদারের ছেলে আসিফ (১৮) এবং মলিন্দ্র ধুপির ছেলে মিলন ধুপি(২২)।
স্থানীয়দের দাবি, মিলন ধুপি এ চুরির ঘটনায় নির্দোষ। তার বিরুদ্ধে চুরির কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তারপরও তাকে মারধরের শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মারধরের শিকার তিনজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন।স্থানীয়দের প্রশ্ন, চুরির ঘটনায় প্রকৃত জড়িতদের শনাক্ত না করে এবং যথাযথ সাক্ষ্য-প্রমাণ ছাড়াই একজন নির্দোষ ব্যক্তিকে কেন মারধর করা হলো? একই সঙ্গে সালিসের মাধ্যমে অভিযুক্তদের ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগেরও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন তারা।
উক্ত বিষয়ে অভিযুক্ত ৩নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মনিরুল ইসলাম বলেন ব্যাটারি চুরির বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন আমরা স্থানীয় ভাবে মীমাংসা করে দিয়েছি।তবে কাউকে মারধর করা হয়নি তবে চুরির বিষয়ে আটক চোরকে আটকে রেখে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে কি না জানতে চাইলে বলেন আমরা প্রশাসন কে জানিয়ে করেছি।
তবে গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুঠোফোনে বিষয়টি জানতে কল দিলে ফোন রিসিভ করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উক্ত বিষয়ে জানতে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুজর মোঃ ইজাজুল হক বলেন মারধর কেউই করতে পারে না।যে চুরি করেছে তাকে দেশের প্রচলিত আইনে বিচার হবে।ওয়ার্ড সদস্য মারধর করে অন্যায় করেছে।ভুক্তভূগি পরিবার যদি আইনি সহায়তা চায় তাইলে আমি তাদের সহায়তা করব।