, , ,
শিরোনাম
ভাণ্ডারিয়ায় আল-গায়যালী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার ফাজিল পরীক্ষার কেন্দ্র স্থগিত কাউখালীতে বাল্যবিবাহ ও মাদক প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সমাবেশ, চার কিশোরী পেলেন লক্ষাধিক টাকার চেক উজিরপুরে বি.এন. খান কলেজের নাম ব্যবহার করে পৈতৃক সম্পত্তি দখলচেষ্টার প্রতিবাদে নগরীতে মানববন্ধন ঝাড়ফুঁকের নামে কিশোরীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিলে অর্থায়নের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার কাউখালীতে নবাগত জেলা প্রশাসকের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত নল‌ছি‌টি‌তে প্রাথমিক বৃত্তিপ্রাপ্ত ১০৭ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা নতুন করে ইরানে দফায় দফায় হামলা শুরু যুক্তরাষ্ট্রের সালিশের পর স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা, স্বামী গ্রেফতার কারামুক্ত জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান
ঝাড়ফুঁকের নামে কিশোরীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ

ঝাড়ফুঁকের নামে কিশোরীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ

Reporter
প্রতিবেদক : বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ঝাড়ফুঁক দিয়ে চিকিৎসার দেওয়ার নামে অসুস্থ এক কিশোরীর সঙ্গে প্রতারণা, বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক এবং অন্তরঙ্গ ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে তাইজুল ইসলাম মুসা নামে কথিত এক কবিরাজের বিরুদ্ধে।

অন্তরঙ্গ মুহূর্তের সেসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে কিশোরী ও তার মাকে হয়রানি এবং ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগও রয়েছে। তবে প্রায় দুই মাস কিশোরীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের পর ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে তাকে বিয়ে না করার কথা জানিয়েছেন তাইজুল ইসলাম মুসা। এমনকি বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে ভয়াবহ পরিণতির হুমকিও দেন তিনি।

এ ঘটনায় কিশোরীর সৎ বাবা (৩১ অক্টোবর) কলাপাড়া থানায় নারী নির্যাতন ও পর্নোগ্রাফি আইনে একটি মামলা দায়ের করলে ২ নভেম্বর বিষয়টি জানাজানি হয়। অভিযোগে কবিরাজ তাইজুল ইসলাম মুসাকে প্রধান অভিযুক্ত করে, সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

প্রধান অভিযুক্ত তাইজুল ইসলাম মুসা উপজেলার ডালবুগঞ্জ ইউপির মনসাতলীর বাসিন্দা। তিনি ঝাড়ফুঁকের কবিরাজি চিকিৎসক নামে পরিচিত।

অভিযোগে জানা যায়, ওই কিশোরীর সৎ বাবা তার কর্মস্থলের কারণে বরিশালের রূপাতলীতে বসবাস করেন। অপরদিকে তার স্ত্রী ও কিশোরী মেয়ে কলাপাড়া পৌরসভার নাচনাপাড়া মদীনাবাগ এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করেন।

তবে রিয়াজের প্রথম স্ত্রীর সন্তান ওই কিশোরী। তবে রিয়াজও মাঝেমধ্যে ওই ভাড়া বাসায় এসে থাকতেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, কিশোরী অসুস্থ থাকায় তার পরিবার বিভিন্নভাবে চিকিৎসার চেষ্টা করে আসছিল। এরমধ্যে পূর্বপরিচিত অসিম গাজীর মাধ্যমে কবিরাজ তাইজুল ইসলাম মুসার সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর চিকিৎসার নামে তাইজুল নানা কৌশলে কিশোরীকে ফুসলিয়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন এবং তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন।

একইসঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের অসংখ্য দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে রাখেন মুসা। পরে ধারণকৃত ওই ভিডিও ব্যবহার করে কিশোরীকে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করতেন তিনি। একপর্যায়ে কিশোরী বিয়ের বিষয়ে বললে অভিযুক্তরা ভিডিওগুলো মোবাইল থেকে পেনড্রাইভে নিয়ে কিশোরীর বাড়িতে গিয়ে হুমকি প্রদান করেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, সেখানে কিশোরী ও তার মাকে বিষয়টি চেপে যেতে হুমকি প্রদানসহ নানা ভয়ভীতি দেখানো হয়। এছাড়াও অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি প্রদান করেন। এতে ওই পরিবার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বর্তমানে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন কিশোরীর বাবা।

এদিকে একাধিক স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, মুসা হুজুরের বিরুদ্ধে অসংখ্য নারীর সঙ্গে এমন কর্মকাণ্ডের ঘটনা রয়েছে। তাদের দাবি, হুজুর মুসা তদবির দেওয়ার সময় কোনো নারীর দিকে তাকালে তাকে বশ করে ফেলেন এবং পরবর্তীতে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। তবে তার এই ঝাড়ফুঁকের আড়ালে তিনি ভয়ংকর নারীলিপ্সুক বলেও অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে কবিরাজ মুসার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি একটি রাজনৈতিক দলের এক প্রভাবশালী ব্যক্তির পরিচয় দিয়ে সামনে এসে যোগাযোগ করবেন বলে ফোন কেটে দেন।

কলাপাড়া থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ওই হুজুরের বিরুদ্ধে তার তৃতীয় স্ত্রীর দায়ের করা একটি মামলা রয়েছে। এছাড়া কিশোরীর মায়ের সঙ্গেও কিছু আপত্তিকর দৃশ্য আমাদের হাতে এসেছে। আমরা সেগুলোও যাচাই—বাছাই করছি যে পুরুষ লোকটি মুসা কিনা। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলেও জানান তিনি।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 Raytahost.Com
Design by RaytaHost