সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৫:২৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে শাটডাউন, প্রতি কক্ষে শিক্ষকদের তালা পবিপ্রবিতে ভিসি অপসারণ দাবির কর্মসূচিতে হামলা, আহত অন্তত ১০ হঠাৎ হাসপাতাল পরিদর্শনে বরিশালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, কর্মচারীকে বরখাস্তের নির্দেশ গলাচিপা মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন ওসমান হাদি হত্যার বিচার না হওয়া মানে জুলাই হেরে যাওয়া: বোন মাসুমা হাদি গৌরনদীতে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে কলেজছাত্রসহ দগ্ধ ২ বাবা হারানোর দিনে রিয়ালকে হারিয়ে শিরোপা জয় ফ্লিকের পুলিশ ফাঁড়ির উদাসীনতায় বগুড়া রোডে বেড়েছে মাদকের বিস্তার! সাগরে লঘুচাপ, টানা ভারী বৃষ্টির আভাস মেহেন্দিগঞ্জে প্রাথমিক শিক্ষার বেহাল চিত্র, উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউন ঘোষণা

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউন ঘোষণা

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের চলমান আন্দোলন আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। এবার উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে অবাঞ্ছিত করে পূর্ণাঙ্গ শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন শিক্ষকরা।

রোববার (১০ মে) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজের ব্যানারে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

এর আগে পদোন্নতিসহ বিভিন্ন দাবিতে গত ২০ এপ্রিল থেকে টানা ১০ দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকরা। আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে এবং ক্লাস—পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যায়।

এ নিয়ে চরম উদ্বেগ—উৎকন্ঠা দেখা দেয় শিক্ষার্থীদের মাঝে। পরে সংকট নিরসনে উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন অনুষদের ডিনদের অংশগ্রহণে ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ তৈরি হয়। ওই বৈঠকের পর শিক্ষকরা কর্মসূচি শিথিল করলে বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্রুত ক্লাস—পরীক্ষা শুরু হওয়ার আশাবাদ তৈরি হয়েছিল।

তবে শিক্ষক সমাজের দাবি, ৩০ এপ্রিলের বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান আইন, নীতিমালা ও প্রচলিত চর্চা অনুযায়ী সংকট সমাধানের বিষয়ে সমঝতা হলেও পরে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথে হাঁটছেন।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়— উপাচার্য গত ৮ মে রাত ১০টার দিকে নোটিশ দিয়ে ৯ মে বেলা ১১টায় একটি জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করেন। শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, ওই সভায় অধিকাংশ সম্মানিত সিন্ডিকেট সদস্যের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকট নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে তারা মনে করছেন।

এ পরিস্থিতিতে রোববার অনুষ্ঠিত শিক্ষকদের সাধারণ সভায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভা থেকে আগামী ১১ মে থেকে উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। একইসঙ্গে ওই দিন থেকে ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ সকল অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে পূর্ণাঙ্গ শাটডাউনের ঘোষণা দেন শিক্ষকরা। এ ছাড়া প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের পদত্যাগ করার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়।

শিক্ষক নেতারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং চলমান সংকট সমাধানে তারা দীর্ঘদিন ধৈর্য্য ধরে আলোচনার পথ অনুসরণ করেছেন। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংকট নিরসনে কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য উদ্যোগ না নেওয়ায় তারা আবারও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছেন।

তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ে অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে শিক্ষকদের নতুন কর্মসূচির ঘোষণায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবারও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ শাটডাউনের কারণে ক্লাস—পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেলে সেশনজট আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা। দ্রুত সংকট সমাধানে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

সার্বিক বিষয় জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলমকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 Raytahost.Com
Design by RaytaHost