সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৫:২৫ অপরাহ্ন
পদোন্নতি নিয়ে চলমান সংকটের মধ্যেই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) প্রক্টর ও সিন্ডিকেট সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন দুই শিক্ষক।
তারা হলেন প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. রাহাত হোসাইন ফয়সাল ও সিন্ডিকেট সদস্য সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানভীর কায়সার।
রোববার (১০ মে) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল এবং উপাচার্যের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন ড. মোহাম্মদ তানভীর কায়সার। তারা দুজনেই অধ্যাপক পদে পদোন্নতি প্রত্যাশী এবং চলমান আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক।
পদত্যাগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল বলেন, উপাচার্যের কার্যক্রমে আমিসহ আমার সহকর্মী শিক্ষক—কর্মকর্তা সবাই হতাশ। উপাচার্য আমাদের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করেছেন। সার্বিক বিষয় নিয়ে উপাচার্যকে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও কোনো কাজ হয়নি। তাই পদত্যাগ করেছি।
অন্যদিকে, সিন্ডিকেট সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করা ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানভীর কায়সার বলেন, আমি সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষকদের পক্ষে কথা বললেও তা উপেক্ষা করা হয়। শিক্ষকদের দাবির বিষয়টি বারবার বলা সত্ত্বেও তা অগ্রাহ্য করা হয়েছে। এ কারণে সিন্ডিকেট সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছি।
জানা গেছে, পদোন্নতিসহ বিভিন্ন দাবিতে গত ২০ এপ্রিল থেকে আন্দোলন করে আসছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ শিক্ষক। শিক্ষদের অভিযোগ, নানা সময়ে উপাচার্য আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেননি।
এরপর গত শনিবার পদোন্নতি জটিলতা নিরসনের জন্য জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডাকা হয়। সিন্ডিকেটের ৯৪তম এ সভায় সংবিধি প্রণয়ন করার পরে শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সিন্ডিকেটের এ সিদ্ধান্তের পর রোববার বৈঠকে বসেন শিক্ষকরা। বৈঠক শেষে দুপুরে প্রক্টরের পদ থেকে ড. রাহাত হোসেন ফয়সাল এবং সিন্ডিকেট সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদনপত্র জমা দেন ড. মোহাম্মদ তানভীর কায়সার।
তবে সন্ধ্যায় এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমের মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও সাড়া মেলেনি।