সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৫:২৫ অপরাহ্ন
বরিশাল নগরীর বগুড়া রোড, বরিশাল ও আশপাশের এলাকায় মাদক বিক্রি ও সেবনের বিস্তার ক্রমেই বাড়ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এবং জনবহুল এলাকা ঘিরে মাদকসেবী ও বিক্রেতাদের সক্রিয়তা এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অক্সফোর্ড মিশন স্কুল, বরিশাল, চৈতন্য স্কুল, বরিশাল, বি এম স্কুল, বরিশাল, মুন্সির গ্যারেজ মোড়, শীতলা খোলা, আম্বিয়া হাসপাতাল সংলগ্ন খালি মাঠ এবং নতুন বাজার এলাকা এখন মাদক বেচাকেনা ও সেবনের “হটস্পট” হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, সন্ধ্যার পর থেকেই এসব এলাকায় ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে মাদক সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়। নির্জন গলি, ফাঁকা মাঠ এবং বাজারের আশপাশের নির্দিষ্ট পয়েন্টে দ্রুত লেনদেন সম্পন্ন করতে মোটরসাইকেলও ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসীর দাবি, অনেক সময় বগুড়া পুলিশ ফাঁড়ির নাকের ডগাতেই এসব কর্মকাণ্ড চললেও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ দেখা যাচ্ছে না। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় সময়েই সন্ধ্যার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাদকসহ কিছু ব্যক্তিকে আটক করলেও গভীর রাতে “দেনদরবারের মাধ্যমে” তাদের ছেড়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
এতে করে আটক অভিযানের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে।
বিশেষ করে স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও কিশোররা এসব এলাকার কারণে ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে বলে অভিভাবকদের আশঙ্কা। আম্বিয়া হাসপাতাল সংলগ্ন খালি মাঠ, শীতলা খোলা, মুন্সির গ্যারেজ মোড় ও নতুন বাজার এলাকায় রাত নামলেই সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের চলাফেরা ও আড্ডা দেখা যায় বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয়রা বলছেন, একাধিকবার বিষয়টি জানানো হলেও স্থায়ী সমাধান না আসায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। তারা নিয়মিত টহল বৃদ্ধি, স্পটভিত্তিক অভিযান, সিসি ক্যামেরা নজরদারি এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলেন,“মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নির্দিষ্ট তথ্য পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মাদক বিক্রি বা সেবনের সঙ্গে জড়িত কেউ রেহাই পাবে না। এ ক্ষেত্রে স্থানীয়দের সহযোগিতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।