বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ১০:২৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
শ্রেণিকক্ষ দখল করে শিক্ষক-শিক্ষিকার বসবাস ভাণ্ডারিয়ায় ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত কাউখালীতে নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে মহিলা পরিষদের বিক্ষোভ সমাবেশ তালিকায় নাম তবুও বকনা বাছুর পাননি জেলেরা ভাণ্ডারিয়ায় মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ইউপি সদস্যর বিরুদ্ধে বয়স্ক ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ মেহেন্দিগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শুরু হলো ৩ দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলা-২০২৬ এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের অভিযান ইয়াবাসহ আটক দুই ট্রাম্প-নেতানিয়াহুকে হত্যা করলে ৫৮ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার দেবে ইরান ঢাকায় অভিযান চালিয়ে ধর্ষণ মামলার আসামি সৌরভ গ্রেপ্তার ভূমি সেবা পেতে আর দুর্নীতির শিকার হতে হবে না : প্রধানমন্ত্রী
তালিকায় নাম তবুও বকনা বাছুর পাননি জেলেরা ভাণ্ডারিয়ায় মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

তালিকায় নাম তবুও বকনা বাছুর পাননি জেলেরা ভাণ্ডারিয়ায় মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় অসহায় মৎস্যজীবীদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে সরকারি বরাদ্দের বকনা বাছুর বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ভূক্তভোগি জেলেদের অভিযোগ, চূড়ান্ত তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও কয়েক জন প্রকৃত উপকারভোগী জেলেরা বকনা বাছুর পাননি। এমন কি তাদের অনেকেই জানতেন না যে সরকারি তালিকায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল।

জানা গেছে, গত ২৬ জানুয়ারি ও ১০ ফেব্রুয়ারী উপজেলার অসহায় মৎস্যজীবীদের মাঝে বকনা বাছুর বিতরণ করেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো.নজরুল ইসলাম। তবে বিতরণের পর একাধিক উপকারভোগী অভিযোগ করেন, তালিকায় নাম থাকলেও তারা কোনো বকনা বাছুর পাননি।

ভাণ্ডারিয়ায় দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের (১ম সংশোধিত) এর আওতায় নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বকনা বাছুর বিতরণে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সৈয়দ নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে । খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলায় ১শত ২০জন দরিদ্র মৎস্যজীবীর মাঝে বকনা বাছুর বিতরণ করা হয়। নীতিমালা অনুয়ায়ী প্রতিটি বাছুরের ওজন হবে অন্তত ৭০ কেজি। তবে উপকার ভোগি জেলেদের অভিযোগ ১২০টি বাছুরের মধ্যে একটি বাছুর ও সঠিক নিয়মের মধ্যে নেই। প্রকার ভেদে বাছুরের ওজন ছিল গড়ে ৪০ থেকে ৪৫ কেজি। এ বকনা বাছুর পেতে হলে মৎস্য কর্মকর্তাকে দিতে হয়েছে দশ হাজার থেকে পনের হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থ । এ অর্থ বিভিন্ন দালালের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে। অপরদিকে স্টাম্প বাবদ ৫০০ টাকা প্রতি জনের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেখানে ৫জন মিলে একটি গ্রুপে একটি স্টাম্প দেওয়ার কথা থাকলেও ও জনপ্রতি ৫০০ টাকা নেওয়া হয়।

ইতিপূর্বে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জাটকা শিকার বন্ধকালীন সরকারি খাদ্য সহায়তা হিসাবে প্রতিমাসে জেলে প্রতি ভিজিএফের চাল বিতরণের তালিকা তৈরি করা এবং দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে বকনা বাছুর বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভুগী পরিবার।

নুরুল ইসলাম মোল্লা ও রহমান হাওলাদার সহ বেশ কয়েক জন জেলে অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা প্রায় ৩০ বছর যাবত মাছ ধরে আসছি। অথচ আমরা চাল পাইনি। যারা জেলেনা তারা ও মৎস্য অফিসের কাছের লোক হওয়ায় তারা চাল পেয়েছে।’ আমাদের ভাগ্য কখনো জোটে নেই সরকারি চাল।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলার ধাওয়া গ্রামের মৃত মোমিনোদ্দীনের ছেলে মো. মজিবুররহমান, একই গ্রামের মো. আব্দুস সাত্তারের ছেলে মো. রেজাউল করিম এবং তেলিখালী ইউনিয়নের হরিনপালা গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলী হাওলাদারের ছেলে মো.মজিবর হাওলাদারসহ আরো অনেকে।

ভুক্তভোগী জেলে মো.মজিবুর রহমান বলেন,আমি কখনো জানতামনা যে আমার নামে সরকারি কোনো বরাদ্দ এসেছে। পরে জানতে পারি তালিকায় আমার নাম ছিল, কিন্তু আমি কিছুই পাইনি।
আরেক ভুক্তভোগী মো. রেজাউল করিম বলেন, সরকার আমাদের জন্য সহায়তা দিয়েছে, কিন্তু আমরা প্রকৃত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার।
জেলে মো.মজিবর হাওলাদার বলেন, তালিকায় নাম থাকার পরও যদি আমরা না পাই, তাহলে বরাদ্দ গেল কোথায় এই প্রশ্ন এখন আমাদের সবার।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো.আসাদ বলেন, মেসার্স শ্যাওলাহাঁস—মুরগি খামার অ্যান্ডসাপ্লাই সেন্টারের পক্ষে বাছুর সঠিক ভাবে দেওয়া হয়েছে । গরু গুলো স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে দেওয়া হয়েছে। তারা যাচাই—বাছাই করেই এ বাছুর গুলো রেখেছেন।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা মৎস্য বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়েও দীর্ঘ দিন ধরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কথা শোনা যাচ্ছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সচেতন মহল।

এ বিষয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন আমার অফিসের সাবেক ফিল্ড অফিসার মনিরুজ্জামান, পিরোজপুর জেলা অফিসের অফিস প্রধান মো.ফিরোজ ও ঠিকাদার মাহাতাব আমার বিরুদ্ধে যড়যন্ত্র করে বি ভিন্ন লোক দিয়ে অভিযোগ দিচ্ছে। অফিসের দুই জন কর্মচারী ঠিকাদার মাহাতাব এর সাথে খাল খনন ও পুকুর খননের কাজে জড়িত ছিলেন। কিন্ত ঠিকাদার সম্পূর্ন কাজ না করার করনে আমি ওই বিলে স্বাক্ষর করি নাই বিদায়। অফিসের লোকের সহায়তায় এসকল ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষ অবগত আছেন। তিনি দাবি করেন ওজনে কম থাকার বিষয়ে বলেন, মাপে ও ওজনে কম থাকার বিষয়টি সঠিক নয়, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে বাছুর গুলো বিতরণ করা হয়েছে।

এদিকে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার ঠিকাদার ওমর ফারুক বলেন তিনি ৩৬টি বকনা বাছুর, ৪০টি ছাগলের ঘর মৎস্য অফিসারের কথায় সাফলাই দিয়ে ছিলেন কিন্তু ৩৬ টি বকনা বাছুর বাবাদ ১৪ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা ও ৪০টি ছাগলের ঘর বাবদ ১লক্ষ ২০ হাজার টাকা মৎস্য কর্মকর্তার কাছে পাবেন। এ নিয়ে তিনি বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছে। এছাড়াও ১শত মৎস্য কার্ড প্রতি ১হাজার টাকা করে অর্থ দিয়েছে মৎস্য অফিসারকে। এসকল অভিযোগ তদন্ত চলছে বলে ঠিকাদার জানান।
এ বিষয়ে পিরোজপুর জেলামৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জিব সন্নামত বলেন, তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতি অভিযোগের দুটি তদন্ত চলছে একটি জেলা অফিস থেকে আর একটি ঢাকা ডিজি অফিস থেকে তদন্ত প্রতিবেদন পেলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. হাসিবুল হাসান বলেন, আমার যোগদানের আগে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় উপজেলা মৎস্য দপ্তরের আয়োজনে উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়নে জেলেদের মধ্যে বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে বকনা বাছুর সহ সরকারি বিভিন্ন অনুদান বিতরণ করা হয়। এ বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 Raytahost.Com
Design by RaytaHost